
শিল্পী শ্যামল সরকারের হাত ধরে নতুন আঙ্গিক থিমে
পুজোর ভাবনায় কন্যাশ্রী। নারীর প্রতি সম্মান। কন্যাভ্রুণ হত্যা চলবে না। বন্ধ করতে হবে বাল্যবিবাহ। বাড়িতে কন্যাসন্তানকে অবহেলা না করে তাকে ভালবাসা ও উৎসাহ দিলে সে অনেককিছু করে দেখাতে পারে – এইসব আবেদন নিয়েই শিলিগুড়ির রথখোলা স্পোর্টিং ক্লাবের পুজোভাবনা ‘স্বপ্নলোক’ মেলে ধরার জন্য এখন দিনরাত এক করে চলেছেন অরবিন্দপল্লীর মণ্ডপশিল্পী শ্যামল সরকার।
পাশাপাশি, এনজেপি ভক্তিনগরের অগ্রণী সঙ্ঘের পুজোয় ‘কলিকালের রঙ্গালয়ে মায়ের প্রাসাদ’- এই থিম তৈরিতে মেতেছেন এই শিল্পী। ১৯৯১ সাল থেকে শিলিগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে পুজোর সময় বিভিন্ন মণ্ডপ তৈরি করে দর্শকদের মন জয় করে আসছেন শ্যামলবাবু। প্রতিবছরই শ্যামলের হাতে তৈরি মণ্ডপ বিচারকদের বিচারে অনেক পুরস্কার আদায় করে নেয়। প্রথম, দ্বিতীয় স্থানও থাকে। গতবছরই আশ্রমপাড়ার জেটিএস ক্লাবের মণ্ডপ প্রার্থনা তৈরি করে সারা রাজ্যে সরকারি পুরস্কারের তালিকায় ঐ ক্লাবের নাম তুলে দেন শ্যামল। ১৯৯১ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে টাইটানিক, কারগিল যুদ্ধ, লন্ডন ব্রিজ, মহাকাশ, মঙ্গলদীপ তৈরি করে বহু দর্শনার্থীর মন জয় করাই নয়, বিচারকমণ্ডলীর কাছ থেকে সেরা সৃজনকাজের পুরস্কার নিয়ে এসেছেন তিনি। এবারেও তার টিমের হাতে তৈরি মণ্ডপদুটি পুরস্কার আদায় করে নেবে বলেই শিল্পীর আশা। দুই সহযোগী তাপস বোস ও দুলাল সুত্রধর সহ পঞ্চাশজন কর্মী নিয়ে শ্যামল এখন দিনরাত পুজো প্রস্তুতিতে মেতে রয়েছেন।
শ্যামল জানান, রথখোলার ক্লাবে কাপড়ের ফুল, ফোম, দড়ি দিয়ে ৮০ ফুট লম্বা আর ৬০ ফুট চওড়া মণ্ডপ হচ্ছে। কাল্পনিক অনেকটা স্বর্গলোক তৈরি হবে। মায়ের কাছে আসছে ডানা মেলা পরীরা। আর তাতেই বার্তা, কন্যাসন্তান ব্রাত্য নয়। শিক্ষা ও যত্ন পেলে কন্যা সন্তানও পুত্র থেকে কম নয় বলে বার্তা দেওয়া হবে বলে শ্যামল জানান। আরও বলেন, তাঁরা এই মণ্ডপের মাধ্যমে কন্যাশ্রীর প্রচার করবেন। মণ্ডপ নির্মাণে সাত লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে। আর এনজেপি ভক্তি নগরের অগ্রণী সঙ্ঘে উত্তরবঙ্গে এই প্রথম ঝুলন্ত মণ্ডপ হচ্ছে। ৮০ ফুট লম্বা আর ৮০ ফুট চওড়ার সেই মণ্ডপ তৈরির জন্য ব্যবহার হচ্ছে লোহার ফ্রেম, বহু বোর্ড, থার্মোকল, মশারির নেট আর ফোম। এই মণ্ডপ নির্মাণে খরচ ধরা হয়েছে দশ লক্ষ টাকা। কাজ করছেন ত্রিশ জন কর্মী। প্রতিমা নির্মাণেও সেখানে শ্যামলের কারুকার্য প্রকাশ পাচ্ছে। প্রতিমাও তৈরি হচ্ছে থার্মোকলের।
