
গোর্খাল্যান্ড মানা সম্ভব নয়, বললেন মুখ্যমন্ত্রী
বরফ গলল। অবশেষে ৭৮ দিনের মাথায় পাহাড় নিয়ে বৈঠক হল নবান্নে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ছিলেন বৈঠকে। ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় সহ রাজ্য মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরাও। ছিলেন মোর্চা, জিএনএলএফ, তৃণমূল সহ পাহাড়ের প্রধান চারটি দল। বৈঠক চলে এক ঘণ্টার বেশি। বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ওঁরা একটা আন্দোলন করছেন গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে। ওঁরা প্রথমেই ওঁদের সেই দাবির কথা বলেছেন। আমরা বলেছি, এটা নিয়ে আমরা আলোচনা করব না। এটা আমাদের এক্তিয়ার নয়। সেটা আমাদের পক্ষে মানা সম্ভব নয়। এই বলে তিনি কার্যত গোর্খাল্যান্ডের বল ঠেলে দিলেন দিল্লির কোর্টে। তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমরা মনে করি, কথা শুরু হয়েছে, এটাই বড় কথা। রাজ্যের পক্ষ থেকে পাহাড়ে বনধ প্রত্যাহার করে শান্তি ফেরাতে অনুরোধ করা হয়েছে। শান্তি ফেরানোর ব্যাপারে সব পক্ষ এক মত হয়েছে। তবে ওদের নিজেদের দলের সঙ্গে ওদের আলোচনা করতে হবে। কথা আরও হবে। পরের বৈঠক হবে শিলিগুড়িতে উত্তরকন্যায়। পাহাড়ের জন আন্দোলন পার্টির নেতা হরকাবাহাদুর ছেত্রী বলেন, ‘আজকের বৈঠকের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী বলে দেন, বিতর্কিত বিষয়গুলি নিয়ে আমরা এখানে আলোচনা করব না। পাহাড়ে শান্তি ফেরানো ইত্যাদি যে বিষয়গুলিতে আমরা সহমত, তা নিয়েই আমরা আলোচনা করব।’ তিনি আরও বলেন, পাহাড়ের হিংসা নিয়ে কোনও নিরপেক্ষ এজেন্সিকে দিয়ে তদন্ত করা হোক।
একটা কথা সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছিল যে মোর্চায় ভাঙন ধরেছে, বিনয় তামাং হয়তো গুরুংকে অস্বীকার করে সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন। অন্তত আজকের বৈঠকে তেমন কিছু হয়নি। আবার এটাও ঠিক যে এই মুহূর্তে পাহাড়ের রাজনীতির যা বাস্তবতা, তাতে গোর্খাল্যান্ড নিয়ে কোনও রকম হালকা অবস্থান নিলে, পাহাড়ে রাজনীতি করাই সম্ভব নয়। তবে, যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল, সেখান থেকে আজকের এই বৈঠক অবশ্যই এক ধাপ এগোনো। পরের ধাপে আলোচনা কোন দিকে মোড় নেয় সেদিকেই তাকিয়ে থাকবে রাজনৈতিক মহল।
