
দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পর্যটকের ওপর নির্ভরশীল তাঁর আয় তলানিতে এসে ঠেকেছে এখন
দার্জিলিং-এর ম্যাল রোডে রোজ সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভিক্ষা করেন তিনি। মহম্মদ জরিফ। বাড়ি বিহারের বরসাইতে। পনেরো বছর আগে এক পা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরই দার্জিলিং-এ চলে আসেন তিনি। আশা, পর্যটকদের দাক্ষিণ্য পাবেন। না, আশাহত হননি তিনি। ভরা পর্যটকের মরশুমে তাঁর দৈনিক রোজগার ৭০০ টাকা। তবে, পাহাড়ে অশান্তির জেরে সেই রোজগারই এখন নেমে এসেছে দৈনিক ২০০ টাকায়।
দার্জিলিং এখন প্রায় পর্যটকশূন্য। মোর্চার ডাকা বনধের ফলে অনেক পর্যটকই নেমে এসেছেন সমতলে। ক্ষতির মুখে পড়েছেন বিভিন্ন জীবিকার মানুষ। রেহাই নেই ভিক্ষাজীবীদেরও। জরিফ তেমনই একজন ভুক্তভোগী। বিহারে দেশের বাড়িতে স্ত্রী আছেন। তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। আরেক মেয়ে পাশ করেছে মাধ্যমিক। সব সম্ভব হয়েছে ভিক্ষায় পাওয়া টাকার মাধ্যমেই। ছেলে কাজ করে বিহারে। সত্তরোর্ধ্ব জরিফের ওপর এই বয়সেও সংসারের একরাশ দায়িত্ব। দার্জিলিং-এ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পর্যটকের ওপর নির্ভরশীল তাঁর আয় তলানিতে এসে ঠেকেছে এখন। শুধু জরিফই নন, পাহাড়ের অশান্তি যত শীঘ্র সম্ভব মিটুক, প্রার্থনা করছেন সবাই।
