
পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়েও নিজের কাজের মাধ্যমে আইকন হয়ে উঠেছেন তিনি
বাসাম সোনার। জীবনের সকল অসহায়তাকে দূরে সরিয়ে এগিয়ে চলতে শেখাচ্ছেন অন্যদের। জলপাইগুড়ি জেলার বানরহাটের লক্ষ্মীপাড়া চা এস্টেটে থাকেন এই ব্যক্তি। অক্ষমতা তাঁর স্বপ্নকে পরাস্ত করতে পারে না। সোনমের দুটি পা-ই পক্ষাঘাতগ্রস্ত। হাতে ভর দিয়ে বড় কষ্ট করে চলা ফেরা করতে হয়। কিন্তু এই অক্ষমতাকে সঙ্গে করেই এগিয়ে চলেছেন মানুষটি।
চা-বাগানের কর্মীদের বেশিরভাগই আর্থিক দিক থেকে দুর্বল। এই আর্থিক দুর্গতির জন্য অনাহার, অপুষ্টির জন্য অনেক শিশুর জন্ম হয় প্রতিবন্ধকতাকে নিয়ে। এই সব শিশু পরিবারের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। বাসাম এই সব পরিবার ও মানুষদের কাছে ভগবানতুল্য। তিনি বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এদের জন্য বরাদ্দ সরকারি সাহায্য পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। বিভিন্ন কারণে ডুয়াসের অনেক চা বাগান বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে ঘরে ঘরে। এই সব বেকার সমস্যা দূর করার জন্য সরকারি উদ্যোগে কম্পিউটার ট্রেনিং স্কুল তৈরি করেছেন তিনি। এর ফলে বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান হয়েছে।
ছোট থেকেই অক্ষম ছিলেন না বাসাম। ১৫ বছর বয়সের পর হঠাৎ পিঠে অসহ্য ব্যথা-বেদনা অনুভব করেন তিনি। ভর্তি হন এসএসকেএম হাসপাতালে। সেখানেই তাঁর ব্যাকবোনের অপারেশন হয়। দীর্ঘ ৮ মাস ভর্তি থাকেন হাসপাতালে। সুস্থ হলেও, হাত ও পা কর্মক্ষমতা হারায়। এই অপারেশন তাঁকে শয্যাশায়ী করে দেয়। কিন্তু তাঁর মনের অসীম শক্তির কাছে পরাস্ত হয় অসুখ। উঠে দাঁড়ান তিনি। শুরু করেন লটারির ব্যবসা। একদিন লেগে যায় এক লটারি। সেই লটারি থেকে পাওয়া ৩৫০০০ টাকার মধ্যে ৩০,০০০ টাকা ব্যয় করেন মানবকল্যাণমূলক কাজে। বাকি অর্থ পুনরায় তাঁর ব্যবসায় নিয়োগ করেন।
সেই থেকেই শুরু হয় বাসামের নতুন পথে চলা। জমানো টাকা দিয়ে একের পর এক কিনতে থাকেন কম্পিউটার। আর সেই সব কম্পিউটারের মাধ্যমে শিক্ষিত করতে শুরু করেন শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী মানুষদের। আর তাঁর এই কাজের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে গত ৩ ডিসেম্বর একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে তাঁকে ‘রোল মডেল’ পুরস্কারে সম্মানীত করেছেন।
