
দু’বছর ধরে এনসিবি ড্রোন উড়িয়েও মালদহের কোথাও আফিম চাষের হদিস পায়নি
পাতে যদি পোস্তের আইটেম থাকে, তাহলে লাঞ্চ হোক বা ডিনার, বাঙালির ভূরিভোজ একেবারে হিট। এই রোমান্টিসিজম যতই থাক, ভারতে পোস্ত চাষ কিন্তু আইনিভাবে নিয়ন্ত্রিত। সরকারি হেফাজতে উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান আর মধ্যপ্রদেশে এর চাষ হয়। এত সতর্কতার কারণ হল, এর আঠা থেকে তৈরি করা যায় হেরোইন কিংবা আফিমের মতো মারাত্মক সব মাদক। বেআইনিভাবে পোস্ত চাষ করে তাই কোটি কোটি টাকা রোজগার করা সম্ভব। মালদহ জেলার কিছুটা প্রত্যন্ত এলাকাগুলি পোস্ত চাষের ঘাঁটি হয়ে উঠেছিল একটা সময়। সেই কুখ্যাতিকে ঝেড়ে ফেলে এখন সারা দেশের আফিম বন্ধে রোল মডেল হয়ে উঠেছে এই জেলা।
আবগারি দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ আর্থিক বছরে গোটা মালদহে বারো হাজার বিঘে জমিতে পোস্ত চাষ উচ্ছেদ করা হয়েছিল। তার মধ্যে কালিয়াচকের তিনটি ব্লকে রবি ফসলের চাষ স্বাভাবিকের এক চতুর্থাংশও হয়নি, জানাচ্ছে সেই বছরে কৃষি দপ্তরের রিপোর্ট। ক্রমশ বেআইনি পোস্তের চাষ ছড়িয়ে পড়ছিল ইংরেজবাজার, গাজল,হাবিবপুরেও। পরের দু’বছরের মধ্যেই কিন্তু উলটে যায় গোটা চালচিত্র। নার্কোটিক কন্ট্রোল ব্যুরো সূত্রে খবর, কোনো জায়গায় পোস্ত চাষ ধরা পড়লে জমির মালিক আর চাষির সঙ্গে সঙ্গে ওই এলাকার পঞ্চায়েত সদস্যকেও গ্রেপ্তার করা হবে বলে ঘোষণা করেছিল প্রশাসন। দু-চার জন পঞ্চায়েত সদস্য গ্রেপ্তার হতেই বাকি সদস্যরা মরিয়া হয়ে পোস্ত চাষ বন্ধ করতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তারই ফলশ্রুতিতে ম্যাজিকের মতো বন্ধ হয়ে যায় পোস্ত চাষ। এখন বেআইনি আফিম চাষ বন্ধে এনসিবি মালদহকে রোল মডেল হিসেবে তুলে ধরায় খুশি জেলা শাসক থেকে ওখানকার সাধারণ মানুষ। জনপ্রতিনিধিদের সদিচ্ছা থাকলে যে কোনো অন্যায়ই ঠেকানো সম্ভব, সেটাও প্রমাণ করে দেখিয়েছে এই জেলা।
গত মাসে দিল্লিতে এনসিবি আলোচিত এক আলোচনাসভায় এই সাফল্যের নেপথ্য কাহিনি শোনাতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল মালদহের প্রতিনিধিদের। আগে মালদহের যে সব এলাকায় পোস্তর চাষ হত, এখন সেখানে ভুট্টা বা অন্য কোনো অর্থকরী ফসলের চাষ হচ্ছে। দু’বছর ধরে এনসিবি ড্রোন উড়িয়েও মালদহের কোথাও পোস্ত চাষের হদিস পায়নি।
ছবি সূত্র – হিন্দুস্তান টাইমস
