রক্তে লেখা লাভ লেটার

নিকু বলল, আমিও ঠিক করেছি, ছোট হব না। চিঠির নীচে ব্লাড দিয়ে আমিও লিখে দেব, ‘ইতি, তোমার নিকু’

কুঞ্জ, নিকুঞ্জ আর কুঞ্জর। তিন ভাই। এমন নাম শিবরামের গল্পে পাওয়া যায়। কিন্তু বাস্তবেও পাওয়া গেল। এর মধ্যে নিকুঞ্জ আমার বন্ধু ছিল। এক সঙ্গে কলেজে পড়তাম। আমি নিকু বলে ডাতাম। পরীক্ষার আগে দু’জনে এক সঙ্গে রাত জেগে পড়তাম। সেকেন্ড ইয়ারের পরীক্ষার আগে একদিন দু’জনে টেবিলে বসে নোট মুখস্থ করছি। রাত বাড়ছে। এমন সময় নিকু পকেট থেকে একটা খাম বের করে বলল, বড় বিপদে পড়েছিলাম, কী যে করব বুঝেই উঠতে পারছিলাম না। তবে সলভ করে ফেলেছি। আমি বললাম কী হয়েছে? নিকু এদিক ওদিক তাকিয়ে আমতা আমতা করে বলল, তুই তো জানিস ফার্সট ইয়ারের বনানীর সঙ্গে আমার একটু ইয়ে ছিল। আমি বললাম ইয়ে আবার কী? হয়েছেটা কী? নিকু বলল, বনানী আজ চিঠি দিয়ে বলেছে। কী বলেছে? মানে ওই ওরও ইয়ে আছে। আমি বললাম, ভালো তো। সে তো আনন্দের কথা। নিকু বলল, সে তো হল, কিন্তু একটা সমস্যা হয়েছে। কী সমস্যা? নিকু খাম থেকে চিঠিটা বের করে খুলে আমার হাতে দিল। অন্যের চিঠি পড়া ঠিক নয়। আমি এক ঝলক দেখে ফিরিয়ে দিলাম। নিকু বলল, দেখলি? বললাম কী? নিকু বলল, নীচে নামটা দেখ। দেখলাম, লাল রং দিয়ে সই করা, ‘বনানী’। নিকু বলল, কী বুঝলি? আমি বললাম, কই, কিছুই তো বুঝলাম না। নিকু বলল, নামটা ব্লাড দিয়ে সই করেছে। আমি ওর বন্ধুদের কাছে শুনেছি, নিজের আঙুলে পিন ফুটি্য়ে রক্ত বের করে নাম সই করেছে। আমি বললাম, তাতে কী হল? নিকু বলল, আমিও ঠিক করেছি, ছোট হব না। চিঠির নীচে ব্লাড দিয়ে আমিও লিখে দেব, ‘ইতি, তোমার নিকু’। আমি বললাম, সামনে পরীক্ষা, এখন এসব আঙুল কাটাকাটি করবি? নিকু বলল পাগল নাকি! দেখছিস না সব জানলা খুলে রেখেছি সন্ধে থেকে। আমি বললাম, তাতে কী হল? নিকু বলল, মশা আসবে তাই। আমি আরও অবাক হয়ে বললাম, মশা দিয়ে কী হবে? নিকু বলল, আরে হবে কী, মশা দিয়েই তো হচ্ছে। অর্ধেক হয়ে গেছে। অলরেডি পাঁচটা রক্ত খাওয়া পেট মোটা মশা আমি মেরেছি। মেরে এই যে এই কাগজের উপর রেখেছি। এই দ্যাখ্ দাঁত খোঁচানোর কাঠি দিয়ে ‘ইতি, নি’ পর্যন্ত লিখে ফেলেছি। আর একটা মশা হলেই ‘কু’ লিখে ফেলব। এই বলে, হঠাৎ দেখলাম ওর চোখ জ্বল জ্বল করে উঙল। বলল, ওই যে। বলেই, দেওয়ালে বসা একটা মশার দিকে পা টিপে টিপে এগিয়ে গেল।

 

Developed by DXDasia