
রায়গঞ্জের তিতিরের ছোট্ট রূপকথা
একরত্তি মেয়েটার মাথা-ভরা কালো চুল। এমন চুলে কী সুন্দরই যে দেখতে লাগত তাকে। কিন্তু একদিন মেয়েটির বাবা তাকে ক্যানসার-আক্রান্তদের ছবি দেখালেন। কেমোথেরাপির পরে চুল উঠে গেছে সবারই। কেমোর জ্বালা, শরীরে মারণ-রোগের বাসা। তার পরে নিজেদের এই চুল না থাকা চেহারার মনোকষ্টও সহ্য করতে হচ্ছে তাঁদের। মেয়েকে বাবা বলেন, “ওদের চুল নেই, তুই তোর চুল দিবি?” একটু ভেবে রাজি হয়ে গেল মেয়েটি। তারপর, সাধের চুল সত্যি সত্যি কেটে দিল সে। তার বাবা সেই চুল পাঠিয়েও দিয়েছেন মুম্বইতে, ক্যানসার-আক্রান্তদের জন্য।
না, এই গল্পে কোনো রূপকথা নেই। কিন্তু যা আছে, তাকে রূপকথা ভাবতে ইচ্ছে করছে বৈকি! রায়গঞ্জের সমাজকর্মী কৌশিক চক্রবর্তী জানতে পেরেছিলেন, চুলের দৈর্ঘ্য ১২ ইঞ্চি বা তার বেশি হলে, তা ক্যানসার-আক্রান্তদের জন্যে দান করা যায়। চুল কাটার নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে, সেই কাটা চুল পলিথিনে ভরে পাঠাতে হয় মুম্বইয়ের ‘মদত ট্রাস্ট’-এ। চোখের সামনেই মেয়ে তিতির মাথাভর্তি একঢাল চুল নিয়ে খেলে বেড়াচ্ছে। কৌশিকবাবু তাই চুল দেওয়ার কথা বললেন নিজের মেয়েকে। তিতিরও রাজি হয়ে গেল। সে ছোটো থেকেই দেখেছে, বাবা আর মা (ঋতুপর্ণা চক্রবর্তী) কীভাবে মানুষের পাশে থাকেন সবসময়। চুল কাটলে ফের গজাবে। কিন্তু তার চুল পেয়ে যে হাসি ফুটবে ক্যানসার-আক্রান্ত মানুষটির মুখে। সেও কি কম পাওয়া!
ঘরে ঘরে তিতিরের মতো মেয়ে জন্মাক। প্রত্যেক তিতিরের বাবা-মায়েরাই যেন হন কৌশিক-ঋতুপর্ণার মতো। তাহলেই এমন সব সত্যি রূপকথাদের জন্ম হবে ঘরে ঘরে।
ছবি: কৌশিক চক্রবর্তীর ফেসবুক পেজ থেকে
