বিনামূল্যে ডাল ভাঙানোর যন্ত্র দেবে রাজ্য সরকার

সহযোগিতায় খড়গপুর আইআইটি

কৃষকদের ডালশস্য চাষে উৎসাহ দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় গত দুবছরে কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে বাড়ানো হয়েছে ডাল চাষের জমি। বিনামূল্যে চাষিদের ডালশস্য বীজ সরবরাহ করেছে কৃষি দপ্তর। কিন্তু চাষের পর ডালশস্য ভাঙানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় অনেক চাষিই ডাল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন না। মুশকিল আসান করতে এবার ডাল মিল তৈরির জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী যন্ত্র সরবরাহ করবে রাজ্য সরকার।

পশ্চিমবঙ্গে ডালশস্যের উৎপাদন চাহিদার তুলনায় অনেকটাই কম। অনেক সময় ভিন রাজ্য থেকেও আমাদের ডাল আমদানি করতে হয়, ফলে খরচও বেশি পড়ে। বর্তমানে তাই কৃষকদের বিকল্প চাষে উৎসাহ দিতে ডালশস্যের উৎপাদন বাড়ানোর নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। ডাল মিল বানানোর জন্য ইতিমধ্যেই কৃষি দপ্তর গাঁটছড়া বেঁধেছে খড়গপুর আইআইটির সঙ্গে। ২০১৬ সাল থেকেই ডাল মিল তৈরির কাজ শুরু হয়ে গেছে। ওই বছর ডাল ভাঙানোর যন্ত্র বসানো হয়েছে ৮টি। মেশিনের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে গোটা রাজ্যে। এখন বিভিন্ন স্বয়ম্ভর গোষ্ঠীকে বিনামূল্যে যন্ত্র দেওয়া হচ্ছে। সেই কাজে সহযোগিতা করছে খড়গপুর আইআইটি। ডাল ভাঙানোর সমস্যা কমতে থাকায় হাসি ফুটেছে কৃষকদের মুখে। এই পদক্ষেপ রাজ্যের সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতির পক্ষেই লাভজনক হবে বলে মনে করছেন চাষবাসের সঙ্গে যুক্ত মানুষেরা।

রাজ্য সরকার বিকল্প কৃষিতে উৎসাহ দেওয়ার ফলে পশ্চিমবঙ্গে ডালশস্যের চাষ আগের থেকে অনেকটাই বেড়েছে। ২০১৬ সালে পূর্ব বর্ধমান জেলায় ডাল চাষ হত ১২ হাজার হেক্টরেরও কম জমিতে। এখন তা বেড়ে হয়েছে ২০ হাজার হেক্টরেরও বেশি। ডালশস্যের উৎপাদন যথেষ্ট আশাপ্রদ অন্যান্য জেলাতেও।

Developed by DXDasia