হাইকোর্টে আইনজীবীদের অবস্থান ধর্মঘট চলছে

পদ ৭২, বিচারপতির সংখ্যা ৩০-এর কম

কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি নিয়োগের দাবিতে আইনজীবীদের অবস্থান ধর্মঘট তৃতীয় দিনে পড়ল। ৭২ জন বিচারপতির পদ থাকলেও বাস্তবে আছেন ৩০-এরও কম। ফলে যত সময় এগোচ্ছে, আরও বেশি আইনজীবীরা এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। বৃহস্পতিবার দেখা গেল বিচার প্রার্থীরাও এই আন্দোলনে যোগ দিতে এগিয়ে এসেছেন।আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের দাবিতে আপাতত অবস্থান ধর্মঘটের সময়সীমা শুক্রবার থেকে বাড়িয়ে পরের সপ্তাহে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আইনজীবীরা সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘এটাকে কেউ যদি ডেমোক্রেটিক ল ‌ইয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আন্দোলন ভেবে থাকেন, তাহলে ভুল করবেন। এটা দল ও মত নির্বিশেষে সব ধরনের আইনজীবীদের একটা যৌথ মঞ্চ। বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, গণতন্ত্রে বিচার ব্যবস্থা একটি অত্যন্ত অত্যন্ত জরুরি স্তম্ভ। হাইকোর্ট সেই জায়গা, যেখানে মানুষ চাকরিবাকরি ও জমিজমা বিষয়ক সঙ্কটে বিচার চাইতে আসেন। বিচারপতির অভাবে তাঁদের মৌলিক অধিকার কার্যত খর্ব হয়। সেটা রক্ষা করার জন্যই তাঁরা হাইকোর্টে আসেন। এই জায়গাটাই যদি ক্রমশ পঙ্গু হয়ে যায়, তাহলে এই মানুষগুলো কোথায় যাবেন?

কলকাতা–সহ বিভিন্ন হাইকোর্টে যে বিপুল পরিমাণ মামলার পাহাড় রয়েছে, সেগুলি কতদিনে নিষ্পত্তি হবে, তা কেউই বলতে পারছেন না। সেখানে যদি বেশিরভাগ বিচারপতির পদ শূন্য থাকে, তাহলে কী অবস্থা হতে পারে অনুমেয়। বকেয়া মামলার কথা ছেড়েই দেওয়া হল। সমসাময়িক মামলাগুলোর শুনানিও আটকে যাচ্ছে বিচারপতির অভাবে। কলকাতা হাইকোর্টের সদর দরজায় প্রধান প্রবেশদ্বারে এই অবস্থান ধর্মঘট চলছে।

আইনজীবীরা জানালেন, যে হাইকোর্টে ৭২ জন বিচারপতি থাকার কথা, দিনকয়েকের মধ্যে সেখানেই বিচারপতির সংখ্যা দাঁড়াবে ২৭। প্রায় ২ বছর ধরে ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন হাইকোর্টে স্থায়ী প্রধান বিচারপতি নেই। শেষ স্থায়ী প্রধান বিচারপতি ছিলেন মঞ্জুলা চেল্লুর। তিনি মুম্বই হাইকোর্টে বদলি হয়ে যাওয়ার পর অস্থায়ী প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নেন গিরিশ গুপ্ত। অবসরের আগে মাত্র একমাসের জন্য স্থায়ী প্রধান বিচারপতি হয়েছিলেন। এর পর থেকে অস্থায়ীভাবে প্রধান বিচারপতির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন নিশীথা মাত্রে। সেপ্টেম্বরে তিনি অবসর নেবেন। এখনও পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে কলকাতা হাইকোর্টে কেউ আসছেন তেমন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। এই পরিস্থতির অবসান চাইছেন আন্দোলনকারী আইনজীবীরা।

Developed by DXDasia