টানা ২৫ বছর কলকাতা ময়দানে রক্ষণ সামলাচ্ছেন বাস্তবের ‘স্টপার’ কমল

এখনই দাঁড়ি টানতে চান না ফুটবল কেরিয়ারে

মতি নন্দীর বিখ্যাত উপন্যাস ‘স্টপার’ মনে পড়ে? কুড়ি বছরেরও বেশি সময় প্রথম ডিভিশনে খেলেছিলেন স্টপার কমল গুহ। বয়সের ভারে নাকি ধার কমে গেছে খেলায়, উড়ে আসে বিদ্রুপ-টিটকিরি, অপমান। ভাঙতে ভাঙতেও ব্যালেন্স হারান না কমল। যুগের যাত্রী-র সঙ্গে লিগের শেষ ম্যাচে তার করা জয়সূচক গোলই জবাব দেয় সমস্ত অপমানের। স্টপার কমল গুহ তো সাহিত্যের চরিত্র, কিন্তু বাস্তবেও টানা ২৫ বছর ধরে ময়দানের ফুটবল মাঠের রক্ষণ সামলে চলেছেন আরেক ‘স্টপার’ কমল। হাওড়ার সাঁতরাগাছির বাসিন্দা কমল ভুঁইঞা।

প্রশান্ত ডোরা, সৌমিক দে, দীপঙ্কর রায়, হুসেন মুস্তাফির মতো তাঁর সমসাময়িক বা খানিক পরে খেলা শুরু করা খেলোয়ারেরা সবাই একে একে অবসর নিয়ে ফেলেছেন। কিন্তু কমল নিয়মিত খেলে যাচ্ছেন এখনো। কমল গুহর মতো তিনিও ডিফেন্ডার। প্রয়োজনে খেলেন স্টপার পজিশনেও। এই বয়সেও ট্যাকেল করছেন, ব্লক করছেন, ফরোয়ার্ডদের সঙ্গে টক্কর দিয়ে রক্ষা করছেন রক্ষণ। না, কোনোদিন ইস্টবেঙ্গল বা মোহনবাগান জার্সি গায়ে তোলার সুযোগ পাননি কমল। আজীবন খেলে গেছেন আপাত ‘ছোটো’ ক্লাবের জার্সি গায়ে চাপিয়েই। কিন্তু যে-দলের হয়েই খেলেছেন, সাফল্য এনে দিয়েছেন ময়দানের এই প্রবীণ ডিফেন্ডার। নিজের টিমকে চ্যাম্পিয়ন বা রানার্স করে উপরের ডিভিশনে তুলে এনেছেন বারবার। এবারেও নিজের ক্লাব সুরুচি সংঘকে তুলে এনেছেন দ্বিতীয় ডিভিশনে। কমল খেললেই উপরের ডিভিশনে খেলার ছাড়পত্র নিশ্চিত—এমন কথা প্রায়ই শোনা যায় ময়দানের অন্দরে।

রোগাপাতলা, পেটানো চেহারা। একঝলক দেখে বয়স বোঝা কঠিন। বোঝা কঠিন ইস্পাতকঠিন মানসিকতার রহস্যটাও। ফুটবলকে ভালোবাসার পাশাপাশি এতদিন খেলে যাওয়ার আড়ালে রয়েছে নতুনদের সঙ্গে লড়াইতে টিকে থাকার এই জেদও। চাকরি নেই, ফলে খেলাই একমাত্র উপার্জনের জায়গা। ময়দান থেকে তাই এক্ষুনি বিদায় নিতে চান না কমল।  কমলের মতো ডিভেন্ডাররা গেলে যে অনেকটাই আগলহীন হয়ে পড়বে রক্ষণ, তা বেশ ভালো করেই জানে ময়দানও।   

Developed by DXDasia