
কডকনাথের পালন করে লাভবান সুন্দরবনের চাষি
কালো মুরগি কডকনাথের চাষ শুরু করেছেন সুন্দরবনের এক চাষি। এই বিশেষ প্রজাতির মুরগিরা অন্য সাধারণ মুরগির থেকে অনেক বেশি শক্তিশালি। এদের সুস্বাদু মাংসে ২৪ থেকে ২৫ শতাংশ প্রোটিন থাকলেও ফ্যাট থাকে ১ শতাংশেরও কম। কোলেস্টেরল কম, তবে খাদ্যগুণ উঁচুমানের। এই মুরগির মাংস ডায়বেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে পথ্য হিসেবে ভালো কাজ করে। মহিলাদের কিছু অসুখের ক্ষেত্রেও উপকার পাওয়া যায় এর মাংস খেয়ে। বিজ্ঞানীদের অনুমান, ক্যানসার প্রতিরোধে কাজে লাগতে পারে কডকনাথ মুরগির মাংস। এই মুরগির ডিমও খুব উপাদেয়। তাই কালো মুরগির চাহিদা খুব বেশি এবং এর চাষও লাভজনক। মধ্যপ্রদেশের আদিবাসীরা প্রথম এই মুরগির চাষ শুরু করে। চিন আর ইন্দোনেশিয়াতেও কালো মুরগির চাষ হয়।
কাকদ্বীপের দুর্গানগরের অধিবাসী জয়দেব মণ্ডল ৫০টি কডকনাথের ছানা নিয়ে এসেছিলেন মহারাষ্ট্র থেকে। এদের মধ্যে ৪০টি ছিল মুরগি আর ১০টি ছিল মোরগ। এখন ভালো ডিম পাড়ছে মুরগিগুলো। একেকটা মুরগির ওজন হয়েছে এক কিলোগ্রামের কাছাকাছি। মুরগি আর ডিম বিক্রি করে যথেষ্ট লাভ করছেন জয়দেব মণ্ডল। ঠাকুরপুকুর ক্যানসার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁর থেকে দুটি মুরগি আর ১০০টির বেশি ডিম কিনে নিয়েছেন। প্রত্যেকটা মুরগির দাম দিয়েছেন ১০০০ টাকা। আর ডিমের দাম পেয়েছেন ৫০ টাকা জোড়া। লাভের বহর দেখে এলাকার অন্যান্য চাষিরাও উৎসাহিত হচ্ছেন কালো মুরগি পালনে। পরিস্থিতি ঠিক থাকলে সারা বাংলাতেই কালো মুরগি চাষ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ্রা।
