মোর্চার অনশনরত নেত্রীদের জেল বদল

ভালো খাবারের দাবিতে জেলে মোর্চার অনশন

বাপি ঘোষ, শিলিগুড়ি জেলের রান্না কচুর তরকারি আর ডাল ভাত খেতে চাইছিলেন না দার্জিলিঙ থেকে গ্রেফতার হওয়া মোর্চার নেত্রীরা। সংশোধনাগারের খাবারের মান নিয়ে তাঁদের অনেক অভিযোগ। ভালো খাবারের দাবিতে শিলিগুড়ি বিশেষ সংশোধনাগারের ভিতরে অনশন শুরু করেছিলেন চম্পা বিভোরি, মনিকা থামি, সৃজনা তামাং ও সঞ্জলা ছেত্রি। টানা তিন চার দিন অনশন চলার পর এই আন্দোনকারীদের শিলিগুড়ি থেকে জলপাইগুড়ি সংশোধনাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হল। এরা পাহাড়ের নারী মুক্তি মোর্চার চার মহিলা নেত্রী।

পাহাড়ে  বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন চলছে। চলছে বনধ। তৈরি হয়েছে খাদ্য সঙ্কট। অনেকের দিন কাটছে অর্ধাহার, অনাহারে। তার মধ্যেই আগুন, ভাঙচুর, বিস্ফোরণও হয়েছে কয়েকটি। আর এই সব অশান্তি হতে থাকায় চলছে গ্রেফতারও। ধৃতদের মধ্যে মোর্চার নারী বাহিনীর কর্মী ও নেত্রীরাও রয়েছেন। পাহাড়ের সংশোধনাগারে ধৃতদের সবাইকে রাখা হচ্ছে না আইনশৃঙ্খলার কারণে। তাছাড়া সেখানে পরিকাঠামোও দুর্বল। তাই তাদের শিলিগুড়ির বিশেষ সংশোধনাগারে এনে রাখা হচ্ছে। এই রকম বন্দির সংখ্যা এখন শিলিগুড়িতে শখানেক। বন্দিদের মধ্যে মহিলা নেত্রীরাও রয়েছে। জেলাশাসক জয়সি দাসগুপ্ত জানিয়েছেন, মহিলা বন্দিদের মধ্যে কেউ বিরিয়ানি, আলুর দম, আলু সেদ্ধ খেতে চাইছিল। কেউ আবার দাবি করছিল, সে নিজে রান্না করে খাবে। কিন্তু সে নিজের জন্য কেন শুধু রান্না করবে, তাকে রান্না করতে হলে সকলের জন্য  রান্না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু সে তা মেনে নেয়নি। আর তাদের বিরিয়ানি, আলুর দম দেওয়াও সম্ভব নয়। সবার জন্য যা খাবার তাই তাদের খেতে দেওয়া হয়। কিন্তু তারা তা না খেয়ে গত তিন চারদিন ধরে অনশন শুরু করে। তাদের নাম হল, চম্পা বিভোরি, মনিকা থামি, সৃজনা তামাং ও সঞ্জলা ছেত্রি। জেল সুত্রে জানান হয়, ঐ বন্দিরা জেলের মধ্যে কচুর তরকারি আর ডাল ভাত খেতে চাইছিল না।  সুপার নবীন কুজুর জানিয়েছেন, মঙ্গলবার এই চার জনকে জলপাইগুড়ি কেন্দ্রীয় সংশধনাগারে পাঠানো হয়েছে। তারা এভাবে খাবার বয়কট করতে থাকলে তাদের ডাক্তারি সহায়তা দরকার হতে পারে। তাই এই সিদ্ধান্ত।

Developed by DXDasia