মাসির বাড়ি থেকে ফিরছেন জগন্নাথ

গুণ্ডিচাদেবী চিন্তামগ্ন হয়ে পড়লে, জগন্নাথ স্বপ্নে দেখা দেন তাঁকে

সোমবার উল্টোরথের দিন জগন্নাথদেবের কাছে প্রার্থনায় রত শিলিগুড়ি ইস্কন সাধুরা। শিলিগুড়ি ইস্কনের সভাপতি স্বামী অখিলাত্মাপ্রিয় দাস জানিয়েছেন, পাহাড়ে যে রাজ্যের নামে অশান্তি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী কাজ চলছে তার সমাপ্তি ঘটিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রার্থনাই সোমবারের মূল লক্ষ্য।

পাহাড়ে অশান্তির জন্য এবার শিলিগুড়ি ইস্কনে রথের দিন কোনও বিদেশি ভক্ত আসেনি। তার মধ্যেই চলে এসেছে উল্টোরথ। পুরাণে কথিত, রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের স্ত্রীর নাম ছিল গুণ্ডিচা। জগন্নাথদেব এই সাতদিন তার মাসির বাড়ি গুণ্ডিচা মন্দিরে অবস্থান করেন। পুরাণের কথা অনুযায়ী রাজা খুব জগন্নাথভক্ত ছিলেন। তিনি মন্দির তৈরির পর জগন্নাথদেবের কাছে এমন একটি বর প্রার্থনা করেন যে তাঁর স্ত্রী গুণ্ডিচা অবাক। সেই বর হল, জগন্নাথদেব যেন কখন তাঁদের পুত্রসন্তান না দেন। এই বর শুনে দুঃখে কাতর গুণ্ডিচাদেবী তাঁর স্বামীকে প্রশ্ন করেন, কেন এমন প্রার্থনা। রাজা জানান, পুত্র হলে সেই জগন্নাথ মন্দিরের অধিকারে আত্মঅহংকার করবে ছেলেরা। তারা ভবিষ্যতে সেই মন্দির তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি বলে দাবি করবে। আর তা নিয়ে অশান্তি হতে পারে। কিন্তু গুণ্ডিচাদেবী চিন্তামগ্ন হয়ে পড়লে স্বপ্নে জগন্নাথদেব দেখা দেন। তাঁকে জানান, আমি তোমার বাড়ি যাব সাতদিনের জন্য। আমিই তোমার সন্তান। সংসার জানবে আমার রথযাত্রা মাসির বাড়ির উদ্দেশে। এই কথা স্মরণ করিয়ে শিলিগুড়ি ইস্কনের সভাপতি বলেন, শিলিগুড়ি ইস্কন মন্দিরের হলঘরে তৈরি করা হয়েছে নকল গুণ্ডিচা মাসির বাড়ি।

পাশাপাশি, রাজ্যের দাবিতে বিভেদ কাম্য নয় বলেও জানান তিনি। রাজ্যের দাবিতে বনধ ডেকে পাহাড়বাসীকে জগন্নাথদেবের দর্শন থেকে বঞ্চিত করা সঠিক হয়নি, এমনই বক্তব্য তাঁর। আরও বলেন, সোমবার মাসির বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার আগে জগন্নাথদেবকে ৫৬ প্রকার সবজি দিয়ে ভোগ নিবেদন করা হয়। সাতদিন ধরে পনেরজন মাসি শিলিগুড়িতে ভগবানের সেবা করছেন। ভগবানের মাসি হওয়ার জন্য রীতিমতো ইন্টারভিউ দিতে হয়। ইস্কন সাধুরা তাঁদের ইন্টারভিউ নেন। মাসিরা অসৎ সঙ্গ করবেন না – এই প্রতিজ্ঞা করেন ইন্টারভিউতে।

Developed by DXDasia