নারী স্বাধীনতার আইকন ইশরাতকে সামাজিক বয়কট

দেশের মানুষের অভিনন্দন, এলাকায় কটুক্তি ইশরাতকে

তাৎখনিক তিন তালাক অসাংবিধানিক। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের রায় শুনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন হাওড়ার ইশরাত জাহান।জাহান আদালতে সেই পাঁচ আবেদনকারীর এক জন, যাদের আবেদনের ভিত্তিতেই সুপ্রিম কোর্টের রায়, তাৎখনিক তিন তালাক অসাংবিধানিক। পিলখানার ডবসন রোডের বাসিন্দা তিনি।কিন্তু ফল হয়েছে উলটো। আদালত রায় শোনানোর পরই পাড়া প্রতিবেশিরা তাঁকে বয়কট করেছে। রাস্তায় বেরোলে শুনতে হচ্ছে কটুক্তি। তিনি জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্ট রায় ঘোষণা করার পর থেকেই অপমানিত হতে হচ্ছে রাস্তাঘাটে। পাড়া প্রতিবেশী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন মিলে আমার চরিত্র হনন করতে নেমে পড়েছে। বলে বেড়াচ্ছে, আমি নাকি জঘন্য চরিত্রের মহিলা। পুরুষ এবং ইসলামের শত্রু’। ২০০০ সালে বিহারে মুর্তাজার সঙ্গে বিয়ে হয় ইশরাত জাহানের। বিয়ের পর ইসরাতরা হাওড়া চলে আসেন। ২০১৫ সালে দুবাই থেকে ফোনে মুর্তাজা তালাক দেয় ইশরাতকে। বাধ্য হয়ে হাওড়ায় বোনের বাড়িতে থাকতে শুরু করেন তিনি।  মুর্তাজা আবার বিয়ে করে। প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে শারীরিক নিগ্রহের শিকার হন ইশরাত। হাসপাতালে পর্যন্ত ভর্তি হতে হয়। তারপরই তিন তালাকের বিরুদ্ধে আদালতে যান ইশরাত। টাকার অভাবে গত চার বছর স্কুলের দরজায় পা রাখেনি ইশরাতের দুই সন্তান। খোরপোষের দাবিতে নতুন করে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবছেন তিনি।

Developed by DXDasia