সৌরবিদ্যুৎ বসছে উত্তরবঙ্গের স্কুলগুলিতে

এর ফলে সম্ভব হয়েছে নব্বই শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা

বিদ্যুৎ সাশ্রয় ঘটাতে রাজ্যের বিদ্যুৎ ও অচিরাচরিত শক্তি মন্ত্রকের অধীন পশ্চিমবঙ্গ পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উন্নয়ন সংস্থা উত্তরবঙ্গের স্কুল ও কলেজগুলোতে সৌর বিদ্যুৎ বসানোর কাজে নেমেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই এই উদ্যোগ। এ বিষয়ে উত্তরবঙ্গের অন্য স্কুলগুলোকে টপকে এগিয়ে প্রথম সারিতে চলে গিয়েছে কোচবিহারের স্কুলগুলো। গত এক বছরে পশ্চিমবঙ্গ পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উন্নয়ন সংস্থার উত্তরবঙ্গ কার্যালয় থেকে উত্তরবঙ্গের ১৩টি স্কুলে সৌর বিদ্যুৎ বসানো হয়েছে। এরমধ্যে দশটিই কোচবিহার জেলায়। আর এতে নব্বই শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা যাচ্ছে।

সেই সরকারি দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, সৌর শক্তির সাহায্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা মহকুমার স্কুলগুলি বিশেষ সাফল্য দেখিয়েছে। মাথাভাঙ্গা হাইস্কুল থেকে শুরু করে বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দির, পাখিহাগাহাট হাটগোবিন্দ হাই স্কুল, হাজরাহাট হাই স্কুল, গোঁসাইরহাট হাই স্কুল, মাথাভাঙ্গা গার্লস হাই স্কুল, সাতগ্রাম কুরসামারি হাই স্কুল রয়েছে। রয়েছে আরও অনেক হাই স্কুল। তবে এক বছর আগে এই সব স্কুলে সৌর বিদ্যুৎ বসানোর আগে বিদ্যুৎ বিল কোথাও কোথাও ১৮ হাজার, কোথাও আট হাজার করে আসছিল। এখন তা মাসে মাত্র তিনশ টাকায় ঠেকেছে, তাও সেটা আবার প্রতীকী। ওই দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, স্কুলগুলিকে দেখে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় এখন তাদের প্রতিষ্ঠানে সৌর বিদ্যুৎ বসানোর প্রয়াস নিয়েছে। এর মধ্যে কোচবিহারের উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় যেমন আছে তেমনই রয়েছে গৌরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, মালদা কলেজ, রায়গঞ্জ ইউনিভার্সিটি কলেজ। রায়গঞ্জ ইউনিভার্সিটি কলেজ একশ কিলোওয়াট এবং জলপাইগুড়ির রাজবাড়িদিঘি ৪৬ কিলোওয়াটের জন্য আবেদন করেছে। এস জে ডি এ রাজবাড়িদিঘি আরও সুন্দর করতে সৌর বিদ্যুৎ বসাতে চায়। তবে এখন পর্যন্ত ১৩ টি স্কুলে ১০ কিলোওয়াট করে ১৩০ কিলোওয়াটের সৌর বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। ৫ থেকে ১০ কিলোওয়াট সৌর বিদ্যুৎ পাওয়ার জন্য খরচ হল সত্তর টাকা প্রতি ওয়াট পিক। আর ১০ থেকে ১০০ কিলোওয়াটে খরচ হল ৬৫ টাকা প্রতি ওয়াট পিক। ১০০ কিলোওয়াটের বেশি হলে ৬০ টাকা প্রতি ওয়াট পিক। তার সঙ্গে সেই দপ্তরকে দুই শতাংশ সার্ভিস ফি দিতে হয়। যদিও স্বশাসিত সংস্থার  ক্ষেত্রে পুরো সৌর বিদ্যুৎ বসানোর পর ত্রিশ শতাংশ ছাড়ের ব্যবস্থা আছে। তবে কোচবিহার ছাড়া আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ির স্কুলগুলোতে যেভাবে সৌর বিদ্যুৎ বসানোর উৎসাহ আছে সেই ভাবে শিলিগুড়িতে কোনও উৎসাহ নেই। শিলিগুড়ি মহকুমার স্কুলগুলোর কাছে এ বিষয়ে আবেদন করেও লাভ হয়নি ওই দপ্তরের। যদিও শিলিগুড়ি পুরসভা এখন তাদের ভবন বা মাতৃসদনে সৌর বিদ্যুৎ বসানোর জন্য আলোচনা করছে।

Developed by DXDasia