
‘ফণী’-তে আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগে প্লাবিত ফেসবুক
ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ ফণা তুলতে পারেনি বাংলায়। দীঘা ও উপকূলবর্তী অঞ্চলে কয়েকটা ছোবল মারলেও কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গে তার ভয়ঙ্কর রূপ সেভাবে দেখতে হয়নি। তবে, সারাদিন ফেসবুক উত্তাল ছিল ফণীর আলোচনায়। ফণীর গতিপথের প্রতি মুহূর্তের আপডেট থেকে শুরু করে কী কী করণীয়—সবই উঠে এসেছে চর্চায়। কে বলে নতুন প্রজন্ম আত্মমগ্ন? তারা শুধু সোশাল মিডিয়াতেই আটকে? ফণী-র সৌজন্যে দেখা মিলেছে নতুন প্রজন্মেরই মানবিক মুখের।
ঝড়-বৃষ্টিতে আটকে পড়লে যে কেউ স্বচ্ছন্দে চলে আসতে পারেন বাড়িতে—এই মর্মে নিজের ফোন নম্বর সহ অনেকেই পোস্ট করেছেন ফেসবুকে। দক্ষিণ কলকাতা থেকে বারাসাত, হুগলী সর্বত্র একই ছবি। এই উদ্যোগে আরো বড়ো করে সামিল হয়েছিল যাদবপুর ইউনিভার্সিটি আর প্রেসিডেন্সির ছাত্রছাত্রীরাও। ইডেন হিন্দু হোস্টেল আর যাদবপুরের কলাবিভাগে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল আশ্রিতদের জন্য ব্যবস্থা। যাদবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ছাত্ররা কাল সারাদিন যাদবপুর সংলগ্ন বস্তিতে ও ফুটপাতে ঘুরে ঘুরে খতিয়ে দেখেছেন গৃহহীন, দুঃস্থ মানুষদের অবস্থাও।
স্বার্থপর হতে চলা সমাজের এই নতুন চেহারা আশার আলো দেখাচ্ছে অনেকটাই। একটা দুর্যোগের ভয় যেন ভেঙে দিল অনেকখানি আগল। বিশিষ্ট সাহিত্যিক এবং অধ্যাপক পরিমল ভট্টাচার্য নিজের ফেসবুক ওয়ালে ছাত্রছাত্রীদেত এই উদ্যোগকে কুর্নিশ জানিয়ে লিখেছেন—“NAAC, এবং সম্প্রতি NIRF, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানের যে মূল্যায়ণ করে, সেখানে outreach activity নামে একটি খোপ থাকে। কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের এই মানবিক প্রয়াসকে সেই খোপে ঢোকানোর কোনো উপায় নেই। যে খোপকাটা বেসরকারি বাজারি সমাজবিযুক্ত উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার দিকে আমরা ক্রমশ এগিয়ে চলেছি, সেখানে এই মানবিকতার কোনো স্থান নেই। সমাজের আসেপাশের সবধরণের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে চলার, প্রয়োজনে হাত বাড়িয়ে দেবার, একসঙ্গে টিকে থাকার শিক্ষা সেখানে নির্বাসিত।”
যাদবপুর-প্রেসিডেন্সি সহ নতুন প্রজন্মের এই মানবিক মুখকে কোন নম্বর বা গ্রেডের ধাঁচেই বা বিচার করবে ব্যবস্থা!
