আপনার বাচ্চাকে কী করে বাংলা শেখাবেন-৩

এইভাবেই বানানের কতগুলো বিষয়ও ছোটদের কাছে স্পষ্ট করে দেওয়া সম্ভব

টিভিতে টুথপেস্টের একটি বিজ্ঞাপন হয়তো সবারই চোখে পড়েছে।সেখানে দেখা যায় ওই পেস্টের বাক্সের ভিতরে নানা ছবি থাকে। মায়েরা সেই ছবি কেটে কেটে বাচ্চাদের সামনে  সাজিয়ে দিয়ে গল্প তৈরি করে শোনান।বা, বাচ্চারা নিজেরাই ওই ছবি দেখে দেখে গল্প বানায়।এই ভাবেই খেলতে খেলতে বানান শেখার কথা বলব আজ।

আজকের বাবা-মায়েরা,শত কাজের মধ্যেও চেষ্টা করেন ছোটদের সময় দেওয়ার। ছোটরা ছবি দেখে গল্প বানায়,  শব্দ চেনে,এইভাবেই বানানের কতগুলো বিষয়ও ছোটদের কাছে স্পষ্ট করে দেওয়া সম্ভব।ই,ঈ-কার/উ,ঊ-কার শেখাতে তাদের বলা যেতেই পারে ‘চল আজ সবাই মিলে চিড়িয়াখানায় যাই’।

ই,/ঈ দিয়ে উচ্চারণ করি এমন যে সব পশু পাখি আছে তাদের ছবি ছড়িয়ে রেখে, দেখে দেখে বলতে বলা হল পশু পাখির নাম।ওদের সামনে প্রথমে রাখা হল ই –কারের পশু পাখির ছবি যেমন টিয়া,শালিক,চিল,হরিণ,গরিলা,সিংহ, জিরাফ,হাতি,বিড়াল।ছোটদের সঙ্গে বড়দেরও কিন্তু জোরে জোরে বলতে হবে পশু পাখির নাম।সঙ্গে শুনতে হবে ছোট ছেলে বা মেয়ে ‘টিয়া’র ‘টি’ আস্তে উচ্চারণ করছে  কিনা।এই ভাবেই হরিণ,সিংহ,গরিলা উচ্চারণ করার সময় ই-কার আস্তে করছে কিনা। খেয়াল করতে হবে ইঁদুর, পিঁপড়ে, উচ্চারণের সময় চন্দ্রবিন্দুর উচ্চারণ ঠিক ভাবে করছে কিনা।ঈগল পাখির ছবি দেখে ঈ-কারের উচ্চারণে জোর দিল কিনা দেখে নিতে হবে। কুমীরের গল্প শোনাতে শোনাতে কুমীর ঈ-কার,টিকটিকি,গিরগিটি ই-কার, এই তফাতটা ধরিয়ে দিতে হবে।এইভাবে ছবি দেখানোর মাঝে ওদের ‘ছড়া সঞ্চয়ন’-এর থেকে ‘ব্যাঙদের সাত ভাই চলে ঠ্যালা গাড়িতে’-সহ অন্যান্য ছড়া বা যোগীন্দ্রনাথ সরকারের ছড়াগুলি পড়ে শোনালে অনেক নতুন শব্দ আর ছন্দের সঙ্গে ছোটদের প্রাথমিক পরিচয় করিয়ে দেওয়া সম্ভব।

শব্দের দেশে ছোটদের নিয়ে যেতে হলে মিল আর ছন্দের সিঁড়ি দিয়ে নিয়ে যেতে পারলেই ভালো। যে কোনও মিল-এই একটা মজা থাকে। সেই মজাটা ধরিয়ে দিতে হবে বাচ্চাকে। একই ভাবে উচ্চারিত হয় এমন কিছু শব্দ ছোট ছোট কার্ডে লিখে চারিদিকে ছড়িয়ে দিন। যেমন– মোষ, বোস, দোষ, কোষ, রোষ, ফোঁস,ময়না,হায়না,আয়না,গয়না ইত্যাদি।মোষ এর সঙ্গে মিলিয়ে কয়েকটা শব্দ খুঁজে বার করতে বলা হলো।ছোটরা দু একটা পারবে,আর ওদের উৎসাহ দিয়ে বড়োদের বাকিটা সাজিয়ে দিতে হবে।তারা যদি মোষ/দোষ/রোষ/কোষ/কোশ/খোশ/এইভাবে সাজিয়ে দেন তো খুব ভাল হয়। আবার ‘ময়না’ শব্দটি দিয়ে বলতে পারেন ‘আর কী কী শব্দের শেষে ‘য়না’ আছে? খুঁজে নিয়ে সাজাও’। দেখা যাবে ওরা ঠিক খুঁজে বার করছে আয়না/হায়না/বায়না/গয়না ইত্যাদি।বা রাধা-র সঙ্গে মিলিয়ে শব্দ খুঁজে নিয়ে সাজাতে বললে ওরা হয়তো সাজাবে সাধা /বাধা/ ধাঁধা/ বাঁধা/ রাঁধা ইত্যাদি।এইবার রাধা শব্দটিকে উল্টো করে বলতে বলুন।ওরা বলল ধারা। এইবার ধারা-র সঙ্গে মিলিয়ে ওদের সামনে একই রকম উচ্চারণের কিছু শব্দ লেখা কার্ড রাখা হলো।তার সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হল ভিন্ন উচ্চারণের কিছু কার্ড।খুঁজে নিতে বলা হল একই রকম মিলের শব্দগুলিকে।ছোটরা  ততক্ষণে মজার খেলাটি শিখে ফেলেছে।ওরা খুঁজে নিল হারা/যারা/তারা/কারা/ সাড়া/খাঁড়া,নেড়া(এইখানে শিখিয়ে দিতে হবে ‘ড়’ হলে একটু জোরে উচ্চারণ করতে হবে সেটা।এই ভাবে স্পষ্ট উচ্চারণ জেনে গেলে স্কুলের প্রার্থনা সঙ্গীত ‘সারা জীবন দিল আলোয় সূর্য গ্রহ চাঁদ’ গানটিতে ‘সারা’-‘র’টি আস্তে উচ্চারণ করে গাইতে হবে।

Developed by DXDasia