আপনি বাচ্চাকে কী করে বাংলা শেখাবেন – ২

‘য’ দিয়ে কিছু ক্রিয়াপদ ও লেখা হয়। ‘যা’ ধাতু থেকে উৎপত্তি…

দুই
বিজয়া ক্লাস ফোরে পড়ে। মোটেও অমনোযোগী ছাত্রী নয়, তবুও লিখতে বসলেই মুস্কিল। গণ্ডগোল হয় বানানে। তখন এ কথাও শুনতে হয়, তোমার নামে যে ‘জ‘ আছে সেটা কোন ‘জ’? বিজয়া জানে ‘জয়’ করা মানে জিতে যাওয়া। সেই ‘জ’টি বর্গীয় ‘জ’। তবু অন্য  শব্দে যেখানে ‘জ’ লিখতে হয়, তা ওর ভুল করে মাঝে মাঝেই ‘য’ হয়ে যায়।

একদিন এই সব ভাবতে ভাবতে বইয়ের পাশেই ঘুমিয়ে পড়ল বিজয়া। হঠাৎ দেখতে পেল সে একটা অচেনা রেল স্টেশনে চলে এসেছে। স্টেশনের গায়ে নাম লেখা, ‘শব্দমালার দেশ’। বিজয়া এদিক-ওদিক দেখছে। হঠাৎ শুনতে পেল কারা যেন কথা বলছে। ভালো করে দেখে তো অবাক। অ, আ, ক, খ, ঞ, চ, প, ট, ক্ষ, ৎ-রা সব কথা বলছে, হাসছে, হেঁটে-চলে বেড়াচ্ছে এদিক-ওদিক। শুনতে পেল ‘জ’ আর ‘য’  ফিসফিস করে বলছে, “ভাই ‘য’ বলেই দে না বিজয়াকে, ‘য’ আর ‘জ’কে ও কেমন করে মনে রাখবে। দেখছিস তো ওর ভুল হয়ে যায়, কোথায় তুই অন্ত:স্থ ‘য’ হয়ে বসবি, আর কোথায় আমি বর্গীয় ‘জ’ হয়ে থাকব! ‘য’ বলল ‘বেশ বলে দিচ্ছি’। বিজয়া কান পেতে রইল আর শুনল, ‘য’ বলছে, ‘যখন, যত, যতক্ষণ, যবে, যা, যাহা, যে, যেখানে ইত্যাদি শব্দ গুলিতে আমি ‘য’ বসব। এই সব সর্বনাম পদে আমি (য) থাকি বুঝেছ হে। আরেকটা কথা শুনতে হবে, মনেও রাখতে হবে, ‘য’ দিয়ে কিছু ক্রিয়াপদ ও লেখা হয়। ‘যা’ ধাতু থেকে উৎপত্তি। যাওয়া অর্থে ‘য’(তুই যা, আমি যাই, সে যায়, যাচ্ছ, যাচ্ছি. যাইতেছিলাম ইত্যাদি ) হবে। আর, কোনও কিছু জানা অর্থে ‘জ’(জানা, জেনেছি, জানাবো, জানিয়াছিলাম, জ্ঞাতব্য, জিজ্ঞাসা, জ্ঞান ইত্যাদি) হবে। ধাতু বিষয়টি তুমি এখন বুঝবে না। তাই রিডিং দিতে দিতে শব্দ চিনে নাও। তবে আমরা তোমাকে যা বলছি শোন।

বিজয়া, হঠাৎ দেখল কারা যেন ‘জামা’ ‘জুতো’ পরে এসে দাঁড়াল রাস্তার বাঁ-দিকে। তারা কেউ ‘জাম’, ‘জামরুল’ হাতে, কেউ নানা রঙের ‘জবা’ ফুল নিয়ে, কেউ বলল “আমি ‘জলজ’ উদ্ভিদ”, একজন আবার অনেক ‘জিনিসপত্র’ নিয়ে এসে দাঁড়াল, এমন সময় কে যেন ডাক দিয়ে বলল’ আমি ‘জল’, জলই ‘জীবন’, আমায় নিয়ে যাও’।  টুংটাং শব্দ করে পথের ডান পাশে এল আর একদল । কারও হাতে ‘যুঁই’ ফুল, কেউ বলল আমি যন্ত্র, আবার কেউ কেউ এল নানা ধরনের অদ্ভুত ‘যানবাহন’ চেপে। কে যেন চেঁচিয়ে বলল, ‘আমিও আসছি, যানজটে আটকে আমার দেরি হচ্ছে। শব্দেরদল এগিয়ে এসে বিজয়ার হাতে একটা হ্যাণ্ডবিল দিয়ে বলল পড়ে দেখ। বিজয়া চোখ বুলিয়ে দেখল তাতে লেখা, ‘যত – জাত, যম – জমানো, যৌবন – জীবন, যখন – জখম, যাগযজ্ঞ – জগাখিচুড়ি, যতি – জ্যোতি আরও এমনি সব শব্দ।

মনে মনে বিজয়া ভাবছে, এ কোন জায়গায় এলাম রে বাবা! এখানেও দেখছি লেখা পড়া করাচ্ছে! বলেই ভাবল, ‘জায়গা’ বানানটা ঠিক হল তো? না হলে এখুনি আবার ওই য/জ-এর দল এসে পড়াতে বসাবে। ভাবতেই দেখল, পাশেই দাঁড়িয়ে ‘জ’ হাসছে আর বলছে, ঠিক হয়েছে, ঠিক হয়েছে। একেবারে একশোয় একশো।

Developed by DXDasia