লিখছেন হুমায়ূন আহমেদ
হুমায়ূন আহমেদ
আমি হিমু হওয়ার নিয়মকানুন নিয়ে ভেবেছি ৷ কিছু নিয়ম এখানে দিয়ে দিলাম৷ আরও কিছু মনে এলে সংশোধনী দেওয়া হবে ৷
হিমু হওয়ার নিয়মাবলি :
১৷ বয়স আঠারোর উপর হতে হবে ৷ আঠারোর নিচে হিমু হওয়া যাবে না ৷ বিশেষ ব্যবস্থায় আঠারোর নিচেও হিমু হওয়া যাবে, তখন বাবা-মা এবং স্কুলের হেডমাস্টার সাহেবের অনুমতি লাগবে ৷
২৷ হলুদ পাঞ্জাবি বাধ্যতামূলক ৷ শীতকালে হলুদ চাদর পরা যেতে পারে ৷ বাংলাদেশের সীমানার বাইরের হিমুরা হলুদ পাঞ্জাবির বদলে হলুদ শার্ট বা জ্যাকেট পরতে পারবে ৷
৩৷ খালি পা বাধ্যতামূলক না ৷ কম দামি চামড়ার স্যান্ডেল পরা যেতে পারে ৷ শীত প্রধান দেশের হিমুরা জুতা-মোজা পরতে পারবে ৷
৪৷ প্রতি পূর্ণিমায় পূর্ণচন্দ্রের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকা বাধ্যতামূলক ৷ মেঘ-বৃষ্টির কারণে চাঁদ দেখা না গেলে কল্পনায় চাঁদ দেখতে হবে ৷
৫৷ বৃষ্টি বাদলার দিনে ছাতা ব্যবহার করা যাবে না ৷ এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে যেতে হবে ৷ ঠাণ্ডা লেগে গেলে চিকিৎসা নিতে হবে ৷ হিমুরা শরীর ঠিক রাখার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারে৷ এতে কোনো বাধা নেই ৷
৬৷ রাতে নির্জন রাস্তায় হাঁটার বিধান শিথিলযোগ্য ৷ বইপত্রে দেখা যায়, হিমুরা সন্ত্রাসী এবং পুলিশের সঙ্গে ঠাট্টা তামাশা করে ৷ নব্য হিমুদের এই কাজ করতে কঠিনভাবে নিষেধ করা হচ্ছে ৷ র্যাবের হাত থেকে শত হস্ত দূরে থাকা বাঞ্ছনীয় ৷
৭৷ হিমুরা কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য বা সমর্থনকারী হতে পারবে না ৷ তাদের একটাই নীতি হিমুনীতি, রাজনীতি নয় ৷
৮৷ হিমুদের জন্য সপ্তাহে দুইদিন নিরামিষ আহার বাধ্যতামূলক ৷ বাকি দিনগুলোতে মনের সুখে খাওয়া-দাওয়া করা যাবে ৷
ঌ৷ হিমুদের পাঞ্জাবিতে পকেট থাকে না ৷ তবে কেউ যদি পকেট রাখেন তবে দোষ হবে না ৷
আরও পড়ুন
হুমায়ূন আহমেদের ১০টি উক্তি
১০৷ হিমুরা কখনোই মানিব্যাগ ব্যবহার করতে পারবে না ৷
১১৷ তারা সব সময় হাস্যমুখে থাকবে, সবার সঙ্গে ঠাট্টা ফাজলামি ধরনের কথা বলবে, তবে পুলিশ বাহিনীর কোনো সদস্যদের সঙ্গে কখনো না ৷ তারা ঠাট্টা ফাজলামি বুঝে না ৷
১২৷ আদি হিমুর পিতা যেসব নীতিমালা হিমুর জন্য লিখে গেছেন সেইসব নীতিমালা নিয়মিত পাঠ করতে হবে ৷ সেই মতো জীবনচর্যাও পরিচালিত করতে হবে ৷
১৩৷ হিমুরা কখনোই কোনো তরুণীর সঙ্গে হৃদয়ঘটিত ঝামেলায় জড়াবে না ৷ একসঙ্গে ফুচকা খাওয়া, ফাস্টফুড খাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ৷
১৪৷ এক হিমু অন্য হিমুকে আপন ভাইয়ের মতো দেখবে ৷
১৫৷ বিশেষ বিশেষ উৎসবে, যেমন পহেলা বৈশাখ, বিজয় দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারিতে সব হিমুরা একত্রিত হয়ে হিমু সঙ্গীত গাইবেন ৷ হিমু সঙ্গীত এখনো লেখা হয়নি ৷ সঙ্গীত লেখা এবং সুর দেওয়া হিমু গেজেটে প্রকাশ করা হবে ৷