যেভাবে কলকাতার যিশুকে খুঁজে পেয়েছিলেন নীরেন্দ্রনাথ

আজ নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর জন্মদিন

পঞ্চাশের দশকে দুই বাংলায় সাড়া ফেলে দিয়েছিল নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কবিতা। তারপর দশকের পর দশক ধরে কবিতার পাশাপাশি ঔপন্যাসিক, শিশু-সাহিত্যিক, গদ্যকার, পত্রিকা-সম্পাদক, ছড়াকার, প্রাবন্ধিক, বানান-বিশেষজ্ঞ হিসেবে বাংলা সাহিত্যের জগতে কিংবদন্তি হয়ে উঠেছিলেন তিনি। আজ নীরেন্দ্রনাথের ৯৫তম জন্মদিন।

তাঁর ‘উলঙ্গ রাজা’ কবিতার লাইনগুলো এক সময়ে মানুষের মুখে মুখে ফিরত। ‘কলকাতার যিশু’, ‘অমলকান্তি’-র মতো কবিতাও হয়ে উঠেছিল খুব জনপ্রিয়। অনেকে বলে থাকেন, কলকাতার যিশু আসলে কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী স্বয়ং। অবশ্য কবি নিজে একবার ‘আনন্দবাজার পত্রিকায়’-এ লিখেছিলেন ‘কলকাতার যিশু’ কবিতাটির প্রেক্ষাপট। এক বিকেলে কবি দোতলা বাসে করে বাড়ি ফিরছেন, হঠাৎ সেই বাস খুব জোরে ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে পড়ল। কবি নীরেন্দ্রনাথের চোখে পড়ল, চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ে রাস্তার উল্টো দিকের ফুটপাথে ছুটে চলে যাচ্ছে একটি চার-পাঁচ বছর বয়সের উলঙ্গ শিশু। রাস্তা পার হবার সময়ে বাস, ট্যাক্সি – কোনো দিকেই তার ভ্রুক্ষেপ নেই। সেই রাতেই নীরেন্দ্রনাথ ‘কলকাতার যিশু’ কবিতাটি লিখে ফেলেন। আসলে, চারপাশে তিনি যা দেখতেন, ঘুরতে ঘুরতে তাঁর যা অভিজ্ঞতা হত, সেটাই ফুটে উঠত তাঁর কবিতায়। 

নীরেন্দ্রনাথের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘নীল নির্জন’, ‘অন্ধকার বারান্দা’, ‘সময় বড় কম’, ‘ঘুমিয়ে পড়ার আগে’। পেয়েছেন একাধিক পুরস্কার এবং সম্মাননা। যদিও কোনো পুরস্কার বা উপাধিই যথেষ্ট নয় কবি নীরেন্দ্রনাথকে মূল্যায়ন করার জন্য। 

Developed by DXDasia