
কাক, চড়াই, শালিক, ময়না, ঘুঘু, কাঠ শালিক, ফিঙে বুলবুলি, সিপাহি বুলবুলি, টুনটুনি, বসন্তবৌরি, বেনেবউ, কাঠঠোকরা, পায়রা, দোয়েল, হাড়িচাঁচা – প্রায়ই দেখা যায় এদের
সুপর্ণা ঘোষ
ওরা দিব্যি আছে এই তিলোত্তমা নগরীতে। তা সে যতই এই নগরীকে বলা হোক না কেন কংক্রিটের জঞ্জাল, ওরা কিন্তু দিব্যি মানিয়ে নিয়েছে। হ্যাঁ, আমি রং-বেরং পাখিদের কথা বলছি। সারা শহর জুড়েই ওদের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। এই যেমন যাদবপুরের সেন্ট্রাল পার্কে আমাদের পাড়ায়। ভোরবেলা ওদের কিচিরমিচির শোনা যায় বইকি! ওদের ডাকেই প্রায় সময় ঘুম ভাঙে। কাক, চড়াই, শালিক, ময়না, ঘুঘু, কাঠ শালিক, ফিঙে বুলবুলি, সিপাহি বুলবুলি, টুনটুনি, বসন্তবৌরি, বেনেবউ, কাঠঠোকরা, পায়রা, দোয়েল, হাড়িচাঁচা – এদের তো নিত্য আনাগোনা। মাঝেমাঝে মাছরাঙা, কোকিল আর খঞ্জনাও পাড়ায় ঘুরতে আসে। আমাদের বাড়ির জানলায় ওদের জন্য জল আর বিস্কুট রেখে দিই বলে সারাদিন ধরে ওদের যাতায়াত বাড়িতে। যদিও এখনও বেনেবউ, বসন্তবৌরি, মাছরাঙা, সিপাহি বুলবুলি আর কোকিলের পায়ের ধুলো পড়েনি আমাদের বাড়িতে, তবে অপেক্ষায় থাকতে তো দোষ নেই। এখন আর ওরা আমাদের ভয় পায় না, কাছে গেলে উড়ে যায় না, সত্যিই এ এক বড় পাওনা! জল কমে গেলে দিব্যি এসে কিচিরমিচির করে বুঝিয়ে দেয়, জল কমেছে। ভারী সুন্দর বন্ধুত্ব হয়েছে আমাদের। বেশ মানিয়ে গুছিয়ে নিয়েছে ওরা এই শহরের সঙ্গে, শহরের মানুষজনের সঙ্গে। যখন আমাদের বাড়ির উল্টো দিকের অ্যাপার্টমেন্টের জানলার কাচে নিজেদের দেখে নিজেরাই মোহিত হয়ে যায়, সেই অপার্থিব দৃশ্য শুধু চেয়ে চেয়ে দেখার। তখন মনে হয় এই বিরল ও মজাদার দৃশ্য দেখা বুঝি ‘সিটি অব জয়’-এই সম্ভব। বাংলার সব পাখিই বুঝি এই রাজধানী শহরকে ভালোবেসে ফেলেছে। তাই কেউ থেকেই যায়, কেউ বা প্রতি বছর যাওয়া-আসা করতেই থাকে।
