
সবাই খুশি ঠাকুর দিয়ে পানের পিক ঠেকানো পদ্ধতিতে
কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার মতোই ঠাকুর দিয়ে পানের পিক ঠেকানো। পশ্চিমবঙ্গের যে কোনও সরকারি অফিসের সিঁড়ির দিকে তাকালে বোঝা যায় বাঙালি কতটা অপরিষ্কার। কলকাতার নামী সরকারি হাসপাতাল থেকে বিধাননগরের সরকারি অফিস, সব জায়গায় গেলেই দেখা যাবে বাঙালি লাল-দিন আনতে না পারলেও সব অফিসের কোণাগুলো পিকেলাল করে দিতে সক্ষম হয়েছে। এই অবস্থা থেকে রেহাই পেতে যার মাথা থেকে বেরিয়েছিল পিকের জায়গায় ঠাকুরের ছবি লাগাও, তাকে খুঁজে বের করতে পারলে ভারতের নীতি আয়োগের মাথায় বসিয়ে দেওয়া উচিত। এমনিতে ‘প্রস্রাব করিবেন না’ লিখলে কেউ পাত্তাই দেয় না, কিন্তু ঠাকুরের ছবি লাগানো থাকলে মানে-মানে সরে পড়ে। পারলৌকিক ব্যপার স্যাপারে ঠাকুরের অনেক ইনফ্লুয়েন্স থাকে সে তো সবার জানা, কিন্তু, ঠাকুরের এমন লৌকিক ব্যবহার, সেটাও কম কথা নয়। কিন্তু ঠাকুর তো আর এক রকমের হয় না, অনেক রকমের হয়। সব ঠাকুরকে সমান গুরুত্ব দেওয়াটাই ধর্ম নিরপেক্ষদের কাজ। সেই কাজটাই করে সবার চোখ কপালে তুলে দিয়েছেন মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ।
যত্রতত্র পান-গুটখার পিক ফেলা আটকাতে দৈবের শরণাপন্ন হয়েছেন হাসপাতালের ধর্ম নিরপেক্ষ কর্তৃপক্ষ। তাই শুধু এক পেশে কালী, শিব নয়, তিন ধর্মের পিকফেলিয়েদেরই যাতে এই ব্যাপারে এক ঢিলে পিক-আপ করা যায়, সে কথা মাথায় রেখে মন্দির, মসজিদ, গির্জার ছবি সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দেওয়ালে, সিঁড়ির কোণে কোণে। ভাব খানা এই, ফ্যাল্ দেখি বাঙালি তোর পিক, দেখি তোর সাহস কত! ব্যাস! তাতেই কেল্লা ফতে। ডরপুক বাঙালি ২৫ ডিগ্রি ঝুঁকে দেওয়ালে পিক ফেলতে গিয়ে যেই না ঠাকুর দেখা, অমনি সটান ৬০ ডিগ্রি রিভার্স টার্ন, তার পর এদিক ওদিক দেখে, পিক ঠেকাতে থুতনির তলায় হাত রেখে মুচকি হেসে, কোঁৎ করে গিলে ফেলছে পিক। কর্তৃপক্ষ বলে দিয়েছে, যারা পান চিবোয় তাদের যখন তখন পিক পেতেই পারে, হাসপালের সরকারি নীতি হল, নিজের পিক নিজে গেলো। হাসপাতালের এই ক্লিন পিক-চারে জেলার মানুষও খুশি। এতে নাকি সরকারের হারপিকের খরচ কমে গিয়েছে কয়েক লক্ষ টাকা।
মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালের ডেপুটি সুপার প্রভাসচন্দ্র মৃধা সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ওই সব ছবি বসানোর পরে যত্রতত্র পিক ফেলার প্রবণতা অনেক কমে গিয়েছে।
