বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ

আবহাওয়া দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় আরও বৃষ্টি হবে

বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত পাহাড় থেকে সমতলের উত্তরবঙ্গ। পাহাড়ে প্রবল বর্ষণে দুই শিশুসহ মৃত্যু হয়েছে পাঁচ জনের। উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহারে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শনিবারও চলছে বৃষ্টি। আবহাওয়া দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে আগামী ৪৮ ঘণ্টা আরও বৃষ্টি হবে। পাহাড়ে বনধ চলছে। চলছে অনশনও। অথচ সেখানকার সাধারণ মানুষ বেশ সমস্যায় আছেন। তার মধ্যে গত দুই দিন ধরে পাহাড়ে শুরু হয়েছে প্রবল বৃষ্টি। তার জেরে বিভিন্ন জায়গায় ধস নেমেছে। দার্জিলিঙের ভোটেধারা এবং গদ্দিখানে শনিবার ধসের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গদ্দিখানে ৭৮ বছর বয়সী নরবুতামাং বাড়ির নীচে চাপা পরে মারা যান আরেক জন আহত। জোড়বাংলো আর লেবংকার্ট রোডে ধসের জন্য বন্ধ হয়েছে রাস্তা। জোড়বাংলোর আলুয়াবাড়িতেও ঘরচাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে মানকুমারি রাই ( ৫১) নামে আরেক ব্যক্তির। প্রশাসনের তরফে উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে। আহতদের পাঠানো হয়েছে হাসপাতালে।

এদিকে সমতল উত্তরবঙ্গও বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত। এনজেপিতে সাতটি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। শিলিগুড়ি শহরে মহানন্দার জল পাশের রাস্তায় উঠে এসেছে। শিলিগুড়ির চম্পাসারি থেকে শুরু করে জ্যোতি নগর, অশোক নগর, শান্তি নগরসহ বহু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এদিন সকালে শিলিগুড়ি সেবক রোডে একটি শপিং মলের সামনে বট গাছের ডাল ভেঙে বিদ্যুৎ-র তার ছিড়ে যায়। এরফলে এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আবহাওয়া দপ্তরের খবর, শিলিগুড়ি শহরে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯২.৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এনজেপি স্টেশনে ষ্টেশনম্যানেজার তপন সাহা বলেছেন, সাতটি ট্রেন বাতিল হলেও অন্যান্য ট্রেন দেরিতে চলছে। জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি ব্লকের সানিয়াজ, খত্তিমারি, কয়া নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বহুবাড়িতে কোমর সমান জল। রান্না বান্না বন্ধ। কয়া নদীর ওপারে প্রায় এক হাজার পরিবার জলবন্দি। জল ছাড়া হয়েছে ভুটানে। ফলে তোরসা নদী বিপদ সীমার ওপর দিয়ে বইছে।

Developed by DXDasia