রোগ সারাতে নিদান আবৃত্তি ও গান

২০০২ সালে চিকিৎসক হিসেবে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে যোগ দেন ডাক্তার পান

বাতের ব্যথা, পঙ্গুত্বের চিকিৎসা করেন তিনি। রোগীদের কাউকে কাউকে আবৃত্তি, সঙ্গীতের অনুশীলন বাড়িয়ে সুস্থ করে তুলছেন। এরই সঙ্গে উত্তরবঙ্গ থেকে কলকাতা, আবৃত্তির প্রসার বাড়িয়েও বিভিন্ন মহলে সুনামও অর্জন করেছেন তিনি। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক ডাক্তার পার্থপ্রতিম পানের এই অন্যরকম সংস্কৃতি-চিকিৎসা বিভিন্ন মহলে আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে ইতিমধ্যেই।

ছোট থেকেই আবৃত্তিচর্চা করেন ডাক্তার পান। বাড়ি মেদিনীপুরে, ২০০২ সালে তিনি উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কাজে যোগ দেন চিকিৎসক হিসাবে। আবৃত্তি ও শ্রুতিনাটকের নিবিড় শিল্পসাধনার জন্য ২০০৯ সালে শিলিগুড়িতে তৈরি করেন ‘কথা ও কবিতা’। আবৃত্তিচর্চার জন্য তিনি দিনরাত কাজ করে চলেছেন। পরবর্তী প্রজন্মকে আবৃত্তি শিল্পে উৎসাহিত করার জন্য রবিবার শিলিগুড়ি কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম হলে ‘কথা ও কবিতা’ আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। ৮ জুলাই শিলিগুড়ি দীনবন্ধু মঞ্চে একক ও সম্মিলিত আবৃত্তি ছাড়াও নতুন বাচিক আঙ্গিক শ্রুতিগল্প আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে আমন্ত্রিত শিল্পী হিসাবে প্রখ্যাত আবৃত্তিকার সৌমিত্র বন্দোপাধ্যায় হাজির থাকবেন। ঐ অনুষ্ঠানে কথা ও কবিতা সম্মানে সন্মানিত করা হবে ২০১৬ তে টেলিসম্মান বিজয়ী চিত্রনাট্যকার ঋতম ঘোষালকে। ৯ জুলাই স্টেডিয়াম হলে ‘শ্রুতিরহস্যসন্ধ্যা’ – কথা ও কবিতার নিজস্ব প্রযোজনা ছাড়াও থাকবে উত্তরবঙ্গের তিনটি বিশিষ্ট দলের শ্রুতিনাটক। শুধুমাত্র রহস্যগল্পের ওপর নির্ভর করে এইরকম নাট্যসন্ধ্যা বাংলায় প্রথম বলে দাবি করেন কথা ও কবিতার কর্মকর্তা ডাক্তার পার্থপ্রতিম পান।এইভাবে আবৃত্তি ও নাটকের প্রসার ছাড়া ও ডাক্তার পান রোগী দেখার সময় লক্ষ্য করেন, কোনও রোগীকে ওষুধ না দিয়ে স্রেফ আবৃত্তি ও গান দিয়ে সুস্থ করে তোলা যায় কিনা। অনেক রোগী  মানসিক, সাইকোসোমাটিক রোগে ভুগছেন। তাঁর কথায়, অনেক রোগী ব্যথা ভুলে আবৃত্তি শিখতে শুরু করেছে তাঁর কাছে।

Developed by DXDasia