
লাউডস্পিকার ছাড়াই বিসর্জনে দেদার নাচ
শব্দদূষণ রুখতে অভিনব পদ্ধতিতে সরস্বতী প্রতিমার বিসর্জন দিলেন কুলটির মিঠানি সাথী ক্লাবের সদস্যরা। গান চালানো হল, নাচানাচি হল, কিন্তু পুরোটাই নিঃশব্দে। নেই কোনো ডিজে, কোনো লাউডস্পিকার। যে যার নিজস্ব হেডফোনে গান চালিয়েই ভাসান দিয়ে এলেন দেবী সরস্বতীর।
চলছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। তাই সরস্বতী পুজোর প্রথম দিন থেকেই পড়ুয়াদের ব্যাপারে যথেষ্ট সাবধানি এই সাথী ক্লাব। ভাসানের দিনও যাতে ক্লাবের সরস্বতী বিসর্জনের জন্য পড়ুয়াদের কোনো সমস্যায় না পড়তে হয়, সেদিকে তারা সজাগ ছিলেন। ভাসানে একটু নাচগান না হলে পুজোটাই অসম্পূর্ণ লাগে। অথচ লাউডস্পিকার চালালে পড়ুয়াদের অসুবিধে। তাই শ্যাম এবং কূল দুদিক বজায় রেখেই নেওয়া হল “নিঃশব্দে বিসর্জনে – বিন্দাস আনন্দে” কর্মসূচি। নিজেদের মোবাইলে গান চালিয়ে নাচতে নাচতে ভাসানে গেলেন তারা। কাউকে বিরক্ত না করেই বাজল হিন্দি রিমিক্স ‘আঁখ মারে’ কিংবা ভোজপুরি গান ‘গোরি তেরি চুনরি লাল লাল রে’ থেকে গুরু রানধাওয়ার ‘পাটোলা বানকে’। প্রতিমার পেছনে একটি পোস্টারে লেখা ছিল, “মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের প্রতি আমার রইল আর্শীবাদ”। সঙ্গে ছিল আবির খেলাও।
পথচলতি অনেক মানুষেরই নজরকাড়ে ব্যাপারটা। তারা দেখতে পান যে একঝাঁক লোকজন যারা কোনোরকম গান-বাজনা-মাইক ছাড়াই অনাবিল আনন্দে নেচে চলেছেন আর পেছন পেছন আসছে মা সরস্বতীর ভ্যানটি। প্রথমে সাধারণ লোকের বুঝতে অসুবিধা হলেও পরে তাদের বোধগম্য হয় ব্যাপারটি। ব্যাপারটা পরিষ্কার হতেই যাঁরা প্রথমে হাসাহাসি করছিলেন, তাঁরাও ক্লাব সদস্যদের এই ভাবনার প্রশংসা না করে পারলেন না।
