
টেবিলে মাত্র ৩০০ ইউরো পড়ে আছে। বাকি ১৯ হাজার ৭০০ ইউরো খেয়ে ফেলেছে
এতদিনে পাওয়া গেছে। এতদিনে হযবরল-র সেই রাম ছাগলের খোঁজ মিলল, কলকাতা থেকে প্রায় সাড়ে ছ’হাজার কিলোমিটার দূরে সার্বিয়ায়। এবং প্রমাণ হল, সুকুমার রায়ের সেই ছাগল একটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চেপে গিয়েছিল।
ব্যাপারটা খুলেই বলা যাক। হিজিবিজবিজের সামনে এসে ব্যাকরণ সিং নামের সেই ছাগল বলেছিল, ছাগলে কী না খায় কথাটা মোটেই ঠিক নয়। ছাগলটা বলেছিল, মানুষেরা বলে বটে ছাগল টিকটিকি খায়। কিন্তু সে নিজে অনেক রকমের টিকটিকি চেটে দেখেছে, ওতে খাবার মতো কিচ্ছুটি নেই। এটা একেবারে মথ্যা অভিযোগ ছাগলদের সম্পর্কে। ঠোঙা, নারকেলের ছোবড়া, খবরের কাগজ, মাসিক পত্রিকা এসব ছাগলেরা খেলেও, মোটা বাঁধানো বই তারা কখনও খায় না। কখনও কখনও লেপ, কম্বল, তোষক, বালিশ এসব খেলেও, খাট, পালঙ, টেবিল, চেয়ার তারা কদাচ খায় না। পেনসিল, রবার, বোতলের ছিপি, শুকনো জুতো, ক্যাম্বিসের ব্যাগ এসব মাঝে মধ্যে চেখে দেখলেও, নিয়মিত তারা ওই সব খাবার খায় না। ছুরি, কাঁচি, শিশি, বোতল তারা কোনও দিনই খায়নি। কেউ কেউ সাবান খায়, তবে সেসব নেহাতই কম দামী সাবান। ফলে ছাগলে কী না খায়, এটা একটা মানুষের অপপ্রচার। কিন্তু ব্যাকরণ সিং যেটা চেপে গিয়েছিল সেটা হল, সুযোগ পেলে তারা টাকা, ডলার এবং ইউরো খেতে খুবই ভালবাসে। খবরটা প্রকাশিত হয়েছে সার্বিয়ার একটি আঞ্চলিক ওয়েবসাইটে। মধ্য সার্বিয়ার এক চাষি পরিবার ১০ হেক্টর জমি কিনবে বলে ২০ হাজার ইউরো জমিয়েছিল অনেক দিন ধরে। যেদিন জমির মালিকের সঙ্গে চুক্তি সই হওয়ার কথা, সেদিন সকালে তাঁরা সপরিবারে শোবার ঘরে টেবিলে গোল হয়ে বসে টাকা গুনে পেপার ওয়েট চাপা দিয়ে, পাশের ঘরে ব্রেকফাস্ট করতে গেছেন। কিন্তু কেউই খেয়াল করেননি যে সামনের দরজাটা খোলা ছিল। চারিদিকে শান্ত নিরিবিলি পরিবেশ দেখে, ওদের প্রিয় রাম ছাগল ‘বেলকা’ সেখানে ঢোকে। খচর-মচর শব্দ পেয়ে সবাই ছুটে এসে দেখেন, বেলকা উদাস হয়ে ইউরো চিবোচ্ছে। খাওয়ার সময় বেলকা শব্দ পছন্দ করে না। হৈ হৈ শুনে আরো কয়েকটা ইউরো মুখে পুরে বেলকা চলে গেল বাড়ির বাইরে। তখন টেবিলে মাত্র ৩০০ ইউরো পড়ে আছে। ১৯ হাজার ৭০০ ইউরো বেলকা খেয়ে ফেলেছে।
মিলেনা সিমিক ওই পরিবারের পক্ষে সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, সেই থেকে তাঁর স্বামী শুধু দেওয়ালের দিকে তাকিয়ে বসে আছেন। তিনি জানিয়েছেন, বেলকা বেশ কয়েক বছর ধরেই তাঁদের বাড়িতে আছে। কিন্তু সে যে তাঁদের জীবনে এত বড় দুর্ভাগ্যের কারণ হবে তা তাঁরা কল্পনাও করতে পারেননি। এরপর তাঁরা স্থির করেন বেলকাকে যদি তাঁদের নিয়মিত চোখের সামনে দেখতে হয়, তাহলে তাঁরা কোনও দিনই এই শোক ভুলতে পারবেন না। স্থানীয় সাংবাদিকদের যখন এই মর্মান্তিক কাহিনি বলছিলেন মিলেনা সিমিক, বেলকা তখন ফায়ার প্লেসের কাছে বসে কান নাড়ছিল। তার মধ্যে কোনও অনুশোচনাই দেখতে পাননি সিমিক পরিবার। এরপর সিমিক পরিবার স্থানীয় সাংবাদিকদের বাড়িতে একদিন নেমন্তন্ন করে খাওয়ালেন। তাঁদের এত বড় দুর্ভাগ্যের যে মূলে, সেই ছিল সেদিনের খাবারে মূল পদ। খাবার নাকি বেশ ভালো ছিল, সে খবর বেরিয়েছে স্থানীয় সংবাদ পোর্টালে।
