
মধ্যরাতের অনুষ্ঠান মনে পড়াবে স্বাধীনতা দিবসের কথা
আগামী ৩০ জুন ঠিক রাত বারোটায় ধণ্টধ্বনির মাধ্যমে সারা দেশে জিএসটি চালু হবে সেন্ট্রাল হলে বিশেষ অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে। কেন্দ্রীয় সরকারের মতে, জিএসটি যেহেতু দেশের পরোক্ষ কর ব্যবস্থায় ঐতিহাসিক বদল আনবে, তাই ১৯৪৭-এর ১৪ আগস্টের মধ্যরাতের সংবিধান সভায় প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর ভাষণের সঙ্গে একটা যোগসূত্র স্থাপন করতেই এই পরিকল্পনা। সেই মধ্যরাতের ভাষণে পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু বলেছিলেন ‘বহুকাল আগে আমরা ভাগ্যের সঙ্গে এক অভিসারে বেরিয়েছিলাম। আজ সময় এসেছে নতুন করে শপথ নেবার।….আজ মধ্যরাত্রির ঘণ্টা যখন বাজবে, সারা বিশ্ব যখন নিদ্রামগ্ন, তখন ভারতবর্ষ জীবন ও স্বাধীনতা নিয়ে জেগে উঠবে। একেকটা মুহূর্ত আসে, ইতিহাসে সেরকম মুহূর্ত অতি বিরল, যখন আমরা পুরাতনকে বিদায় দিয়ে নতুনকে বরণ করে নিই, যখন একটা যুগের অবসান হয়, যখন একটা দেশের আত্মা দীর্ঘ অবদমন শেষে আপন বাণী খুঁজে পায়’।উদ্ধৃতি কিছুটা বড় হল। তবে অনেকেই অবশ্য মনে করছেন, ১৯৪৭-এর ১৪ অগস্ট মধ্যরাতের সঙ্গে আগামী ৩০ জুন মধ্যরাতের, সময় এবং গুরুত্বের বিচারে কোনও তুলনাই হয় না। ৩০ জুনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি, দুই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এবং দেবগৌড়া, উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারি, স্পিকার সুমিত্রা মহাজন, সব দলের সাংসদ, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং বিরোধী নেতারা। অনুষ্ঠানের জন্য সময় ধরা হয়েছে ৭০ মিনিট। অর্থমন্ত্রী থাকার সময় জিএসটি বিল পেশ করেছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিদায়বেলায়, তাঁর হাতেই উদ্বোধন হতে চলেছে জিএসটি বিল।
অনুষ্ঠান শুরু হবে রাত ১১টায়। ভাষণ দেবেন রাষ্টএপতি,প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রী। দুটি প্রজেকশনও দেখান হবে।রাত ১২টায় ঘণ্টাধ্বনির মধ্যে দিয়ে সারা দেশে একই হারে একই কর ব্যবস্থা চালু হবে। তার ১০ মিনিট পর শেষ হবে আনুষ্ঠান।
