
দৃষ্টি ঘোরাতেই এসব বলা হচ্ছে বললেন ত্রিপাঠী
রাজ্যপালের বক্তব্য নিয়ে কড়া অবস্থান নিল তৃণমূল। পাল্টা কড়া বিবৃতি দিয়ে রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীও বুঝিয়ে দিলেন প্রয়োজনে বিষয়টি তিনিও চালিয়ে যাবেন। দুটি সাংবিধানিক পদের এই সংঘাত কত দূর গড়াবে তা অবশ্য ভবিষ্যতই বলতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর বিরুদ্ধে রাজভবনকে ‘বিজেপির পার্টি অফিস’ ও নিজেকে ‘বিজেপির মুখপাত্র’ করে তোলার জন্য রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের কাছে কার্যত নালিশই জানাল তৃণমূল পরিষদীয় দল। বুধবার পরিষদীয় দলের তরফে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বসিরহাটের ঘটনা ও তার পরে রাজ্যপাল-মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনার উল্লেখ করে চিঠি লিখে তার প্রতিলিপি পাঠান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহকেও। পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানান বসিরহাটের পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে রাজ্যপাল মঙ্গলবার বলেছিলেন ‘আপনার লোকেদের সামলান।’ এতেই ক্ষুব্ধ হন মমতা। রাজ্যপাল তাঁর সীমা অতিক্রম করে মুখ্যমন্ত্রীকে অপমান করেছেন বলে এদিনও মন্তব্য করেন পার্থ।
পার্থবাবু এ দিন সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, মঙ্গলবার বসিরহাটের ঘটনার বিস্তৃত বিবরণ দিয়ে বিকেল সাড়ে চারটের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে চিঠি লেখা হয়। কিন্তু চিঠি দেওয়ার দেড় দু’ঘণ্টা পরে মুখ্যসচিবকে কেন্দ্র জানায় মাত্র ৩ কোম্পানি বিএসএফ দেওয়া হবে। মঙ্গলবার রাতেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় মুখপাত্র ডেরেক ও‘ব্রায়েন দাবি করেছিলেন যাতে রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীকে রাষ্ট্রপতি সরিয়ে দেন। এ দিন পার্থ বলেন, রাজ্যপাল যদি তাঁর বক্তব্যে অনুতপ্ত না হন, তাহলে আমরা আরও কঠিন পদক্ষেপ নেব।’ পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘রাজ্যপাল যে স্বরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন, তা অসংসদীয়।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘রাজভবন বিজেপির পার্টি অফিস হতে পারে না। তিনি বিজেপি মুখপাত্রের মতো কথা বলছেন।’
এর পরই রাজভবন থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হব, আইন শৃঙ্খলা সমস্যা থেকে দৃষ্টি সরাতে এসব বলা হচ্ছে। মানুষের আবেগ ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করা হয় ওই বিবৃতিতে। এদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী। এদিকে রাজ্য বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। সর্বদল বৈঠক ডাকার দাবি জানিয়েছে সিপিএম।
