
গোরু বলেছে যাব যাব, মোষ বলেছে যাই, সাগর পাড়ে আচ্ছে দিন, আমরা তো আর নাই
দিল্লির সরকার আইন করেছে। আইন করে বলেছে, বাজার থেকে গোরু মোষ কিনে তাদের মেরে রেঁধে খাওয়া বন্ধ। খেলে জেল হবে। এই নিয়ে সর্বত্র আলোচনা চলছে। লাইভস্টক সমীক্ষা অনুযায়ী দেশে প্রায় ২০ কোটি গোরু মোষ আছে। গো-সমৃদ্ধ দেশ। সরকার থেকে নাকি বলা হয়েছে গোরুদের ওই শিংটুকু বাদ দিলে আর কোথাও ওদের মধ্যে অ্যান্টি মানুষ বলে কিছু নেই। শাসকদলের এক নেতা বললেন, গোরু জানে না যে গোরু আমাদের মা। কিন্তু আমরা তো জানি। ফলে মায়ের দেওয়া মোটা শিং মাথায় করে নে-রে ভাই। এই হল সরকারের গো-নীতি।
মুশকিল একটা হয়েছে। সরকারের এই নীতিতে বাজারে চামড়া আসা বন্ধ হবে। চামড়ার সংকট দেখা দেবে। তা শুনে সরকারের এক অফিসার বললেন, এই ব্যাপারটা দেখা হচ্ছে। মানুষ যেমন পাড়ায় পাড়ায় স্বেচ্ছা রক্তদান শিবির করে, গোরুদের দিয়েও ওই রকম স্বেচ্ছা চর্মদান শিবির করাতে চায় কেন্দ্রের সরকার। তবে জানা গিয়েছে গোরুদের এখনও এ ব্যাপারে রাজি করানো যায়নি। কথাটা পাড়তেই নাকি গোরুমন্ত্রীকে গুঁতিয়ে দিয়েছে এক দল শিংওয়ালা গোরু।
দ্বিতীয় সমস্যা হয়েছে, প্রতি দিন খাওয়ার জন্য ২লক্ষ গোরু মারা হত। এখন বন্ধ। ফলে দেশের ২০ কোটি গোরুর সঙ্গে দৈনিক আরও বেঁচে যাওয়া ২লক্ষ করে গোরু মোষ যোগ হচ্ছে। মানে বছরে ৭২ লক্ষ করে। এই ৭২ লক্ষের ছানা জন্মাবে বছরে ৪০-৪২ লাখ করে। এই ভাবে কোটি কোটি গোরু মোষ বাড়তে বাড়তে শহর গ্রাম ছেয়ে ফেলবে। কিন্তু তারা খাবে কী? গোরু তখন ঘাস না পেয়ে কলা, মুলো, কুমড়ো, সজনে ডাটা, এঁচড়, আলু এসবে মুখ বাড়াবে। কিন্তু গোরু মোষের গায়ে হাত দেওয়া যাবে না। ওরা সরকারি সম্পত্তি। ট্রাম বাসের মতো। ভাঙচুর করলেই জেল। দুর্ভিক্ষের সময় মানুষ নাকি একটা পোড়া রুটি রাস্তার কুকুরের থেকে কেড়ে খেয়েছে। দিন আসছে, যখন এক ফালি মিষ্টি কুমড়োর জন্য মানুষকে গোরুর সঙ্গে কাড়াকাড়ি করতে হবে। শুধু তাই নয়, এই হারে গোরু বাড়তে থাকলে এক দিন হয়তো এমন আসবে যখন গোয়ালে আর ওদের ঠাঁই হবে না। তখন ওরা নানুষের শোবার ঘরে ঢুকে এসি চালিয়ে খাটে শুয়ে ল্যাজ নাড়বে। মানুষকেই একদিন ওরা সংখ্যালঘু করে দেবে। তখন মানুষকেই গোরুরা পাঠিয়ে দেবে গোয়ালে। এই ভাবেই ওর এক দিন গোটা দেশটাই দখল করে নেবে। গোরু বিশেষজ্ঞদের মত, তখন নাকি গোরুদের মধ্যেও এক ধরনের জাতীয়তাবাদী ভাবনা চিন্তা দেখা দেবে। এই ভাবেই জন্ম নেবে গোসাম্রাজ্যবাদ।
দিল্লির শাসকদলের এক নেতা বললেন, এত দিন দেশ, বিদেশ ছিল। এবার হবে গোদেশ। নেতাকে প্রশ্ন করলাম, এসব কি ভালো হচ্ছে? নেতা বললেন, শুনুন, বিশ্বাসে মিলায় গোরু, তর্কে দেশদ্রোহী। প্রশ্ন করবেন না। এদিকে কে এক দলিত ছাত্র নাকি ফেসবুকে লিখে দিয়েছে, গোরু বলেছে যাব যাব, মোষ বলেছে যাই, সাগর পাড়ে আচ্ছে দিন, আমরা তো আর নাই। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সরকার বলেছে, গোরু নিয়ে রসিকতা বরদাস্ত করা হবে না। শোনা যাচ্ছে ওই যুবকের নাকি ফাঁসি হবে।
