ব্রিটিশ ভারতের সর্বপ্রথম মহিলা স্নাতক ছিলেন কবি কামিনী রায়!

এমনকি নারী শ্রম তদন্ত কমিশনের সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন কামিনী

কামিনী রায়। খুব কম মানুষই এঁর নাম শুনেছেন হয়তো। এই প্রথিতযশা কবি, সমাজকর্মী এবং নারীবাদী লেখিকা কামিনী রায় যে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের সর্বপ্রথম মহিলা স্নাতক ডিগ্রিধারী ব্যক্তি ছিলেন, এ কথা ক’জনই বা জানি! বেশ কিছু বছর ‘জনৈক বঙ্গমহিলা’ ছদ্মনামে লিখেছেন। সেসময় কেউই বোঝেননি, ইনিই সেই কামিনী রায়। 

১৮৮০ সালে কলকাতার বেথুন স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং তার তিনবছর পর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন কামিনী। ১৮৮৬ সালে বেথুন কলেজ থেকে সংস্কৃত ভাষায় প্রথম মহিলা হিসাবে স্নাতক ডিগ্রিতে সম্মানিত হন। ওই বছরেই বেথুনের স্কুল বিভাগে শিক্ষয়িত্রীর পদে নিযুক্ত করা হয় তাঁকে। সেযুগে মেয়েদের কাছে নারীবাদের মতো গুরুগম্ভীর বিষয় ছিল খায় না মাথায় দেয়-এর মতো। কিন্তু কামিনী রায় ছিলেন সবার থেকে আলাদা। তাঁর লেখায় বারবার পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা এবং মেয়েদের পাশে থাকার ছবি মূর্ত হয়ে উঠেছিল। শুধু তাই নয়, নারী শ্রম তদন্ত কমিশনের সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন।

মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু। জীবনের সুখ-দুঃখ, আশা-আকাঙ্ক্ষা, আনন্দ-বেদনার সহজ-সরল ও সাবলীল প্রকাশ ঘটেছে তাঁর কবিতায়। মাত্র পনেরো বছর বয়সেই প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘আলো ও ছায়া’ (১৮৮৯)। ভূমিকা লিখেছিলেন সেকালের আরেক প্রখ্যাত কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। কামিনী রায় আজীবন গুরু মেনে এসেছেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে। আজ ১২ অক্টোবর কবি কামিনী রায়ের ১৫৫তম জন্মবার্ষিকী। এই দিন তাঁকে বিশেষভাবে শ্রদ্ধা জানাতে গুগলের লোগো বদলে তাঁকে ট্রিবিউট দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে সঙ্গে তাঁর জন্মদিনের বার্তা পৌঁছে যাচ্ছে সমগ্র বিশ্বে।

Developed by DXDasia