সারা দেশে দৃষ্টিহীনদের জন্য প্রথম মানচিত্র বাংলাতেই

ব্রেল লিপিতে মানচিত্রের বই প্রকাশ করল ন্যাটমো

মানচিত্র দেখতে কেমন? রঙে-রেখায় কেমন দেখতে লাগে নিজের দেশ, রাজ্য কিংবা এই মস্ত পৃথিবীটাকে? মানচিত্র মানেই একটা বিস্ময়। এই যে আফ্রিকা, এই যে নীল-নীল রঙের নদী, এই তো আমার জেলা… কিন্তু, দৃষ্টিহীনরা কীভাবে মানচিত্রের মাধ্যমে চিনবেন নিজের রাজ্য-দেশ বা বিশাল পৃথিবীটাকে? এই ভাবনা থেকেই ন্যাশনাল অ্যাটলাস অ্যান্ড থিম্যাটিক ম্যাপিং অর্গানাইজেশনের (ন্যাটমো) পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হল বাংলা ব্রেল লিপিতে তৈরি কাগজের মানচিত্র। গোটা দেশে এই প্রথম কোনো আঞ্চলিক ভাষায় ব্রেল লিপিতে মানচিত্রের বই বেরোল। আর সেটি ঘটল বাংলা ভাষাতেই। 

মঙ্গলবার সল্টলেকের একটি ওয়ার্কশপে প্রকাশিত হল এই মানচিত্র। দেশের ভূ-প্রকৃতি, নদনদী, জলবায়ু, মৃত্তিকা, খাদ্যশস্য ইত্যাদি ২০টি বিষয় রয়েছে এই মানচিত্রে। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের ১৯টি জেলা থেকে প্রায় ৬০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা। দৃষ্টিহীন পড়ুয়ারা কীভাবে এই নয়া ব্রেল মানচিত্র দেখবেন, সেই বিষয়েই শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এইদিন। পশ্চিমবঙ্গে নথিবদ্ধ স্কুলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রায় ২২-২৩ হাজার পড়ুয়াদের দৃষ্টিশক্তি নেই বা ক্ষীণ। এই নতুন মানচিত্রে তাদের খুবই সুবিধে হবে। কিন্তু প্রশিক্ষণ ছাড়া পড়ুয়াদের এই মানচিত্রর ব্যবহার শেখানো কঠিন শিক্ষকদের পক্ষে, তাই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

ন্যাটমোর বৈজ্ঞানিক আধিকারিক অঞ্জনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছিলেন, বিগত ৩ বছর ধরেই রাজ্য-সহ গোটা দেশের দৃষ্টিহীনদের স্কুলে গিয়ে মানচিত্র বিষয়ক ওয়ার্কশপ করানো হচ্ছিল ন্যাটমোর পক্ষ থেকে। সঙ্গে থাকত কুইজও। আর সেই ওয়ার্কশপ করাতে গিয়েই দেখা যায় দৃষ্টিহীনদের জন্য নির্দিষ্ট স্কুল ছাড়াও অন্য বেশ কিছু স্কুলেও পড়াশোনা করে ক্ষীণ দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন কিংবা দৃষ্টিহীন ছাত্র-ছাত্রীরা। ন্যাটমোর অধিকর্তা ডঃ তপতী ব্যানার্জি জানালেন, সেইসব স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা যাতে এই মানচিত্র ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, তাই সেখান থেকেও শিক্ষকদের ডাকা হয়েছিল মঙ্গলবারের ওয়ার্কশপে। ডঃ তপতী বন্দ্যোপাধ্যায় আরো জানালেন, এই মানচিত্র এবং মানচিত্র সম্বলিত বইটি রাজ্যের সেইসমস্ত দৃষ্টিহীন বা কম দৃষ্টিসম্পন্ন পড়ুয়াদের স্কুলে বিনামূল্যে বিলি করা হবে। পাশাপাশি বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় রেকর্ড করা বিশেষ অডিও ক্যাসেটও দেওয়া হবে স্কুলগুলিকে। সেগুলি শুনেও এই মানচিত্র ব্যবহার সম্পর্কে নানা কিছু জানতে পারবে পড়ুয়ারা।

কৃষ্ণনগর হেলেন কেলার স্মৃতি বিদ্যামন্দিরের সজল দেবনাথ কিংবা মালদহের আরপি রায় মেমোরিয়াল ব্লাইন্ড স্কুলের রতনকুমার দাস-রা উচ্ছ্বসিত এই মানচিত্র দেখে। ছাত্রছাত্রীরাও যে উচ্ছ্বসিত হবে, বলাই বাহুল্য।

Developed by DXDasia