চক্ষুদানের সচেতনতাকে ছড়িয়ে দিতে বাইকে ভুটান গেলেন এই তরুণ

বিনয় কোচ জোকা ইএসআই হাসপাতালের সাফাইকর্মী

মানসিকতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে মানবিক আস্থাও। বাড়ছে মরণোত্তর অঙ্গদানের সচেতনতা। এবার মরণোত্তর চক্ষুদানের সচেতনতাকে ছড়িয়ে দিতে বাইকে ভুটান গেলেন জোকা ইএসআই হাসপাতালের সাফাইকর্মী বিনয় কোচ। কলকাতা সংলগ্ন এলাকায় তাঁর বাস। বাড়ির প্রত্যেক সদস্য কাটান অভাব অনটনে। বিনয় নিজেও লেখাপড়া বেশিদূর করতে পারেননি। আগামী বছর প্রাইভেটে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ছোটো থেকেই বাইকে চড়তে ভালোবাসেন। পাশাপাশি রয়েছে খেলাধুলোর প্রতি নেশা। এখন তিনি মরণোত্তর চক্ষুদানের সচেতনতা আরও বাড়াতে বাইকে করে পৌঁছে গেছেন ভুটানের থিম্পুতে। 

পথে যেতে যেতে বাইক থামিয়ে বিভিন্ন গ্রাম-শহর-মফস্‌সল এলাকায় মরণোত্তর চক্ষুদানের বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন জনমানসে। তাঁকে স্বাগত জানাচ্ছে এলাকার মানুষ। এর সঙ্গে সঙ্গে বিনয় কোচ প্রচুর লিফলেট এবং পোস্টার তৈরি করেছেন। যাতে এই বার্তা সমাজের সর্বস্তরের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারেন। বিনয়ের যাত্রার শুভলগ্নে পাশে থেকেছেন ইএসআই হাসপাতালের ডিন ডাঃ জয়দেব রায়চৌধুরি, সুপার ডাঃ এম এন রায়, চক্ষু বিভাগের প্রধান ডাঃ অরুণাভ কুণ্ডু প্রমুখ। সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গেছে সেই হাসপাতালের লাইব্রেরিয়ান প্রশান্ত চক্রবর্তীর উৎসাহে বিনয় কোচের এই কর্মসূচি। 

ছোটো থেকেই মূলস্রোতের কাজকর্মের বাইরে আরও যে কাজ আছে, তার জন্য ভাবেন বিনয়। তাঁর কাজের উৎসাহে গর্বিত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কলকাতা থেকে সুদূর ভুটানে বিনয় তাঁর সমস্ত আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন। সঙ্গী একটিমাত্র বাইক। এইবার মরণোত্তর চক্ষুদানের কর্মসূচি নিয়েছেন, পরেরবার অঙ্গদানের কর্মসূচি গ্রহণ করবেন জানিয়েছেন। বিনয়ের মাথায় এগিয়ে এসেছে সমস্ত আশীর্বাদী হাত। অঙ্গদান কর্মসূচির প্রতিশ্রুতি নিয়ে তখন তিনি ঘুরবেন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে। এই তরুণ তুর্কি বিনয় কোচের দিকে তাকিয়ে আছে বহু খেটে খাওয়া মানুষ। 

ছবি- সংগৃহীত 

Developed by DXDasia