১৬৬ বছর পর চিরতরে বন্ধ রেলের পিচবোর্ড-টিকিট

পরের বছর মার্চ থেকে আর ছাপা হবে না এই টিকিট

হলুদ পিচবোর্ডের চৌখুপি টিকিট। টিকিটের নম্বর, যাত্রার তারিখ, স্টেশনের নাম, ভাড়া ছাপা কালো বা লাল কালিতে। টিকিট চাইলেই কাউন্টারের ভিতরে বসে থাকা রেলকর্মী নির্দিষ্ট জায়গা থেকে বের করে আনতেন টিকিট। তারপর পাঞ্চিং মেশিনে পাঞ্চ করে এগিয়ে দিতেন যাত্রীদের দিকে। টিকিট কেই বা রেখে দেয় বেশিক্ষণ। প্রয়োজন ফুরোলেই ফেলে দেওয়া রেওয়াজ। অবশ্য কচি-কাঁচা-ছোটোরা সেই টিকিট রেখে দিত জমিয়ে। আজো হয়তো কোনো গোপন সিন্দুকে জমানো আছে সেই টিকিট।

কম নয়, ১৬৬টি বছর ভারতীয় রেলযাত্রীদের কাছে রেলপথ ব্যবহারের ছাড়পত্র পৌঁছে দিয়েছে এই টিকিট। এবার থামার পালা। আর মাত্র কয়েকটা মাস। ভারতীয় রেলবোর্ড জানিয়েছে, পরের বছর মার্চ থেকেই আর মিলবে না এই টিকিট। এখনই অবশ্য বেশিরভাগ কাউন্টারে চালু হয়ে গেছে কম্পিউটার-নিয়ন্ত্রিত টিকিটের ব্যবস্থা। হাতেগোনা কয়েকটি স্টেশনে এখনো এই টিকিট মেলে। ক’দিন পরে সেও বন্ধ হয়ে যাবে। ছাপা বন্ধ হবে লোকাল ট্রেনের হলুদ টিকিট, মান্থলি টিকিট ইত্যাদি। রেলের ছাপাখানাগুলোও বন্ধ হবে। ছাপাখানার কর্মীরা বদলি হবেন অন্যত্র।

এই টিকিটের পোশাকি নাম এডমন্ডসন টিকিট। প্রথম চালু হয়েছিল ইংল্যান্ডের যাত্রীবাহী ট্রেনে, ১৮৪০ সালে। তার ১৩ বছর পরে ভারতের রেলযাত্রাতেও চালু হয় এই টিকিট। এখনো পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকটা স্টেশনে মেলে এই টিকিট। আয়ু ফুরিয়ে আসছে। এরপর সেও যাবে বিগতর দলে।

Developed by DXDasia