উপেক্ষিত ঐতিহ্য, ঐতিহাসিক সৌধ সংরক্ষণের উদ্যোগ দমদমে

ক্লাইভ হাউস, মতিঝিল, মিরজাফরের বাড়ি, ইং-আফগান যুদ্ধের স্মারক ছড়িয়ে দমদমে

কলকাতা আর বরানগরের মাঝে বিখ্যাত জনপদ দমদম। রোজকার জনস্রোত হয়তো ভুলেই গেছে ঐতিহ্যে সামান্যও পিছিয়ে নেই এ অঞ্চল। ব্রিটিশ ভারতের অন্যতম প্রাচীন সেনাছাউনি তথা ক্যান্টনমেন্ট এখানেই। অনেকে বলেন, দমদম নামকরণের আড়ালেও এই সেনাছাউনিরই ভূমিকা। ‘দুম দুমা’ থেকেই নাকি দমদম নামটি এসেছে। বিখ্যাত ক্লাইভ হাউস নাকি আরো অতীতে ছিল ওলন্দাজ কুঠি। ১৭৫৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি, দমদমেই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় বাংলার নবাব আর ইংরেজদের মধ্যে। সেই চুক্তি অনুযায়ী ঢাকা ও কাশিমবাজারে শিবির প্রতিষ্ঠা, কলকাতায় দুর্গ নির্মাণের অনুমতি পেয়েছিল ইংরেজরা। ১৮৪৬-এ দমদমেই তৈরি হয় অ্যামুনিশান ফ্যাক্টরি।

এছাড়াও এখানেই অ্যালুমিন্যাম ফাক্টরির ভিতরে রয়েছে মিরজাফরের বাড়ি। সেন্ট স্টিফেন্‌স চার্চ বাংলার অন্যতম প্রাচীন প্রোটেস্ট্যান্ট গির্জা। এই গির্জার ভিতরেই রয়েছে একটি ক্যারান্থিয়ান স্তম্ভ। রয়েছে শতাব্দীপ্রাচীন মসজিদ, মন্দির, কবরস্থানও। ইঙ্গ-আফগান যুদ্ধের স্মারক মিনার, দমদম সেন্ট্রাল জেলও রয়েছে এখানে। রয়েছে বেলগাছিয়া নাট্যশালার স্মৃতিও।

ইতিহাস, ঐতিহ্য এভাবেই ঘিরে রয়েছে দমদমকে। অথচ, সেই ইতিহাস পড়ে রয়েছে উপেক্ষিত, অবহেলিত। সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হতে চলেছে অনেক ঐতিহাসিক স্মারক, নির্মাণ। দমদমের এহেন ঐতিহ্য সংরক্ষণের দাবিতেই পথে নেমেছে দেশকাল ও পিপলস গ্রিন সোসাইটি। ১৮ এপ্রিল থেকেই বিভিন্ন সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে এই সংস্থা। শুরু হয়েছে হেরিটেজ ওয়াক, হেরিটেজ মিট। এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেকেই। ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি।

Developed by DXDasia