তুকারাম বৈজনাথ কালেকে কেউ চেনেন?

তুকারাম অনশন করছিলেন একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সামনে। আরও অনেকের সঙ্গে, কৃষি-ঋণের দাবিতে…

চাষির নাম তুকারাম বৈজনাথ কালে? কেউ চেনেন? বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রের পরভণী জেলায় তুকারাম মারা গিয়েছেন অনশনরত অবস্থায়। প্রতিবাদে অনশন করে মৃত্যুর ঘটনা কম হলেও ঘটে। তুকারাম অনশন করছিলেন একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সামনে। আরও অনেকের সঙ্গে, কৃষি-ঋণের দাবিতে।

কৃষকদের দাবি চাষের জন্য ঋণ। ভারতের চাষি কলেরায় মরেছে, ম্যালেরিয়ায় মরেছে, দুর্ভিক্ষে মরেছে শত শত বছর ধরে। আজ যে তাঁরা বিজলি, সড়ক, পানির দাবি ছাড়িয়ে ঋণের দাবিতে আন্দোলন করছেন, সেটা কিছুটা অগ্রগতিরই চিহ্ন, সন্দেহ নেই। ভারতের কৃষক বেশ কিছু দিন ধরেই কিছু বলছেন। দিল্লিতে, মুম্বইতে বিরাট বিরাট কৃষক জমায়েত হয়ে গিয়েছে। স্বামীনাথন কমিটির সুপারিশ মেনে সহায়ক মূল্য এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে কৃষকের আওয়াজ শোনা যাচ্ছ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে  হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ফেরত দেয়নি কারা সেই নামের তালিকা এখন সবার মুখস্থ। চাষি ঋণ নিয়ে ফরত দেন না, এটা দেশের সাধারণ ছবি নয়। ২০১২ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছিলেন, কোনও চাষি যদি চাষের বিপর্যয়ের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে ব্যাঙ্ক ঋণ ফেরত দিতে না পারেন, তাঁকে সময় দিতে হবে, কিন্তু তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা যাবে না। অনেকেই সে সময় বলেছিলেন, এর পর পশ্চিমবঙ্গে কোনও চাষি আর ঋণের টাকা ফেরত দেবেন না। তা কিন্তু হয়নি। বরং অনেক সমবায় ব্যাঙ্কে খোঁজ নিয়ে দেখা গিয়েছে পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে।

ফেরা যাক তুকারাম বৈজনাথ কালের কথায়। তুকারামের বয়স ৩৯। বাড়ি পরভণী জেলার মারদাইগাঁওয়ের পাথরি তহশিল এলাকায়। পাথরি থানার ইন্সপেক্টর বিদ্যাসাগর শ্রীমানভর সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার তুকারাম অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তিনি মারা গিয়েছেন। তিনি আরো জানিয়েছেন, সরকারি নথিতে মৃত্যুর কারণ লেখা হয়েছে, দুর্ঘটনা জনিত কারণে মৃত্যু। অর্থাৎ, মহারাষ্ট্র সরকার অনশনের ঘটনাটা স্বীকারই করল না। 

মাসখানেক আগের ঘটনা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একটি মনি ওর্ডার পেয়েছেন। ১০৬৪ টাকা মনিওর্ডার করে পাঠিয়েছেন মহারাষ্ট্রের নাসিকের এক পেঁয়াজ চাষি। চাষির নাম সঞ্জয় সাঠে। পেঁয়াজ চাষ করে কেজি পিছু তিনি দেড়টাকাও পাননি। যা পেয়েছেন তা তিনি প্রতিবাদ স্বরূপ পাঠিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। প্রধানমন্ত্রীর দফতর কিন্তু সেই পেঁয়াজ গ্রহণ করেনি। ফেরত পাঠিয়ে দিয়ে রিপোর্ট চেয়েছে, কেন ওই চাষি পেঁয়াজের দাম পাননি। শুক্রবারের খবর, নাসিকের ডেপুটি রেজিষ্ট্রের অফিস সরকারকে দেওয়া রিপোর্টে বলেছে, ‘সঞ্জয় সাঠের বিক্রি করা ওই পেঁয়াজ ছিল, কালচে এবং নিম্নমানের’। অর্থাৎ এখানেও সরকার স্বীকারই করল না, সঞ্জয় যে অতি ফলনের জন্য পেঁয়াজের দাম পড়ে যাওয়ার অভিযোগ করছেন তার মধ্যে কোনও সারবত্তা আছে।  স্থানীয় মার্কেটিং প্রডিউস কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ওই সরকারি রিপোর্ট ডাঁহা মিথ্যা। সরকারি কোনও আফিসারই এই বিষয়ে জানতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।

তুকারাম বৈজনাথ কালেকে কেউ মনে রাখবে না। তবু তাঁরই স্মৃতিতে আজকের এই প্রতিবেদন।
 

Developed by DXDasia