রাজধানী এক্সপ্রেসের খাবার যেন মরণফাঁদ

খাবার খেয়ে মরতে বসেছিলাম, টিকিট কেটে আর কতদিন এই দুর্দশা কিনবেন যাত্রীরা?

গর্বের রাজধানী এক্সপ্রেসে উঠে এবার প্রাণে বাঁচবো কিনা ঠিক ছিল না। সাধারণত রেল পরিষেবার প্রতি আমাদের যে আস্থা রয়েছে তা ধীরে ধীরে নয় অত্যন্ত দ্রুত মুছে দিতে উদ্যোগ নিয়েছে রাজধানী এক্সপ্রেসের প্যান্ট্রি কারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা। রেল মন্ত্রক, রেল মন্ত্রী সকলেরই এখবর একেবারে জানা নেই তা নয়। মাঝে মধ্যেই খবর বেরোয় খাদ্য আক্রান্ত যাত্রীদের নিয়ে। কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছুই হয় না। আমি জানি আমিও যে লেখাটা লিখতে বসেছি তারও অনেক গ্যারাকল। রেল বলবে, রিপোর্ট করছেন ? সরকার বলবে খাবারের নমুনা রেখে দিয়ে ফরেন্সিক কে আবেদন করলেন না কেন ? ক্যান্টিন ম্যানেজার গর্বের সাথে তাঁর চেকড অ্যান্ড ভেরিফায়েড সার্টিফিকেটও দেখিয়ে দেবেন। কিন্তু এতো কিছুর পরে এটাই ঠিক যে মরে যেতাম। আসলে গত ১০ তারিখ দিল্লী থেকে হাওড়া আসছি। আমি গিয়েছিলাম গোয়ালিয়ারের জিওয়াজি ইউনিভার্সিটিতে একটা বিশেষ কাজে। সেখান থেকে ৯ তারিখ রাতের গাড়িতে দিল্লী আসি। আর ১০ তারিখেই বিকেল ৪টে ৫৫-তে গাড়ি। কোচ নম্বর বি টু। গাড়ি ছাড়ার পরপরই খাবার দেবার ঢল নামল। সেসবের পর রাতের খাবারের অর্ডার। ডিম বেশী নেই জানিয়ে দেওয়া হল আমাদের। চিকেন নিলাম। ভাত টা কেমন যেন তেঁতো তেঁতো লাগলো। জানালাম, বলল ওটা নাকি জিরা রাইস। কিন্তু তা বোধহয় না। চিকেন রাবারের মতো শক্ত। হাড়ের থেকে মাংস আলাদা করতে গেলে কুস্তি শেখা দরকার যে তা বুঝতে পারলাম। বললাম জল দিতে আসার ছেলেটাকে। বলল, আই আর সি টি সি দিচ্ছি স্যার।এর পর মনে হয় স্বপ্ন দেখছি হার্ট অ্যাটাক হয়েছে আমার। আমি বুকের ব্যাথা নিয়ে কাতর। ঘুমটা ভেঙে গেল।দেখলাম স্বপ্ন নয় সত্যি। বুকের যন্ত্রণায় মোড়ে যাচ্ছি। তৎক্ষণাৎ হাতের কাছে ডাইজিন, এবং ব্যাথার জন্যে সঙ্গে যেটুকু ওষুধ ছিল খেলাম। দেখি কাজ তো হয়ই না উল্টে ব্যাথাটা বাড়ছে। তার পর শুরু হল অনর্গল বমি। প্রাণে বেঁচে ফিরবো কিনা ভাবছি। এমনও ভাবলাম কানপুরে নেমে যাবো। যতই রাত হোক কানপুর মেডিক্যাল কলেজে চলে যাবো। তারপর বাড়িতে খবর দিয়ে দেবো। এক প্রস্থ বমি করে ফিরে এবার দেখি আমার সহ- যাত্রী ও বদ হজমের পাল্লায় পড়লেন। তিনি ডিম ভাত পেয়েছিলেন। এবার শুরু হল তাঁর আসা যাওয়া। রেলের লোক গুলোকে বললাম ভাই একটু টি টি কে ডেকে দেবেন। দরজার কাছে ঘুমোতে ঘুমোতে তারা কি যে বললেন তাও বুঝলাম না। একজন পুলিশ কর্মী টর্চ নিয়ে আসছিলেন তাঁকে বললাম। তিনি বললেন ডেকে দেবেন। কিন্তু কেউ এলো না।

যাই হোক এরকম অবস্থায়গোটা রাত কাৎরাতে কাৎরাতে এলাম। ট্যাক্সিকে ফোনে বলে দিলাম।  বলে কয়ে স্টেশনের ভেতরেই গাড়ি ঢুকিয়ে দিলো। ওতে করেই স্টেশন থেকে সরাসরি ক্যালকাটা হার্ট রিসার্চ সেটারে গিয়ে ঢুকলাম। বুকের ব্যাথার ধরন দেখে সাথে সাথে ই সি জি এবং ইকো করলেন তারা। কিছু পাওয়া গেল না। তখনই বোঝা গেল রাজধানীর রাজ ভোজের রাজ রোষে পড়েছিল আমার দেহ। কাগজে সম্প্রতি অনেক রিপোর্ট পড়েছি। পরিবর্তনের কথাও শুনেছি। কিন্তু বুঝলাম বিষ ভোজের গল্প থামেনি।

বুঝলাম বন্দী ছাগলের মতো আমাদের তোলা আর নামানোই রেলের কাজ। ভাই এ সি কোচ দিয়েছি, খাবার দিয়েছি, কম্বল দিয়েছি, আইসক্রিম দিয়েছি, টক দই দিয়েছি, স্যুপ দিয়েছি আবার কি। তাই কড়ি ফেলেছ তেল দিয়েছি আবার অভিযোগ কিসের? এই অযত্ন আর অসভ্যতাই এখন রাজধানীর ফিচার। পয়সা দিলে যে দুর্দশা কেনা যায় তা বুঝলাম রাজধানীতে চড়ে।

Developed by DXDasia