পাহাড়পথে কু-ঝিকঝিক, ফের যাত্রা শুরু শৈলরানি টয় ট্রেনের

১৯৯৯ সালে এনজেপি থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত টয় ট্রেনের যাবতীয় সম্পত্তিকে হেরিটেজ স্বীকৃতি দিয়েছিল ইউনেস্কো

আজ, বুধবার নিউ জলপাইগুড়ি থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত আবার হেরিটেজ টয় ট্রেন ছুটলো। করোনার কারণে প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর ফের শুরু হল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের এই পরিষেবা। বিলাসবহুল ভিস্তাডোম কোচ-সহ নয়া আঙ্গিকে চালু হচ্ছে টয় ট্রেন।

করোনার কারণে প্রায় মুখ থুবড়ে পড়েছিল পর্যটন শিল্প। দার্জিলিং জুড়ে ছিল জনমানবহীন নিস্তব্ধতা। ভারতীয় রেলের অন্যতম আকর্ষণীয় রেল হল টয় ট্রেন। দেশি-বিদেশি পর্যটকরা করোনার কারণে দার্জিলিংয়ে আসতে পারেননি। এবার পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতেই আজ সকাল থেকে ফের চালু হল পর্যটক ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের বহু আকাঙ্খিত ট্রয় ট্রেন পরিষেবা।

টয় ট্রেনে চেপে পাহাড় যাওয়ার ইতিহাস আজও সমৃদ্ধ। কে নেই সেই তালিকায়! কোচবিহারের মহারাজা থেকে নাট্যকার দীনবন্ধু মিত্র, মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ এসেছেন। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের হাত ধরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম শিলিগুড়ি স্টেশনে এসেছিলেন। তারপর মংপু যাওয়া-আসার পথে অনেকবার এসেছেন রবি ঠাকুর। আমেরিকার বিশ্ববরেণ্য সাহিত্যিক মার্ক টোয়েন, স্বামী বিবেকানন্দ, ভগিনী নিবেদিতা, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, বাঘাযতীন টয়ট্রেনে করে দার্জিলিং ও কার্শিয়াংয়ে গিয়েছেন। মহাত্মা গান্ধিও একবার এসেছিলেন। 

এতদিন নানা বিধি-নিষেধ শিথিল করে পর্যটনের দ্বার খুলে দেওয়া হলেও দার্জিলিং-সহ তরাই ডুয়ার্সে পর্যটকদের খুব একটা দেখা পাওয়া যাচ্ছিল না। স্বাভাবিকভাবেই পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত পড়েছিল। পুজোর আগে এই টয় ট্রেন পরিষেবা চালু হওয়ায় পর্যটক-ব্যবসায়ীরা স্বভাবতই এখন আশার আলো দেখছেন।

১৯৯৯ সালে এনজেপি থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত টয় ট্রেনের যাবতীয় সম্পত্তিকে হেরিটেজ স্বীকৃতি দিয়েছিল ইউনেস্কো। কাজেই হেরিটেজ তকমা ধরে রাখার জন্য টয় ট্রেন ও স্টেশনগুলিকে ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণও করতে হবে।

Developed by DXDasia