ছিপ নিয়ে গেল তৃণমূল, মাছ নিয়ে গেল বিজেপি

চিন থেকে প্রচুর বাইনোকুলার আনিয়েছে। বাইনোকুলার ছাড়া নাকি পার্টিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না

গত ১৭ মে রাজ্যের সাত পুরসভা ভোটের ফল প্রকাশিত হয়েছে। কিছু অভিযোগ বাদ দিলে ফল যেমন হবে বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল, তার থেকে খুব একটা এধার ওধার হয়নি। যেটা এই ভোটে চমকপ্রদ, সেটা হল, সিপিএম বা বামফ্রন্টের প্রাপ্ত ভোট। ঠাট্টা করে এখন বলা হচ্ছে, সিপিএম নাকি চিন থেকে প্রচুর বাইনোকুলার আনিয়েছে। বাইনোকুলার ছাড়া নাকি পার্টিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ বলছেন, এত দিনের একটা পুরোনো দল উঠে যাবে! হেরিটেজ-দল হিসেবে সরকারের উচিত সংরক্ষণ করা। বা, নির্বাচন কমিশন বরং অনুমতি দিক স্পনসর গ্রহণের। তখন না হয় লেখা হবে, ‘কিংফিশার-সিপিএম’ বা ওইরকম কিছু।

২০১৪-এর লোকসভা ভোটে বামফ্রন্ট ভোট পেয়েছিল ৩০ শতাংশ। তার পর ১৬-র বিধানসভায় (কংগ্রেসের ভোট বাদ দিয়ে) বামেরা ভোট পেল ২৭ শতাংশ। ২০১৬-র উপনির্বাচনে বামফ্রন্ট পেল ১৪ শতাংশ ভোট। ১৭-র উপনির্বাচনে কাঁথিতে ১০ শতাংশ। আর গত ১৭ মে যে ৭ পুরসভার ফল বেরোলো, তাতে দেখা যাচ্ছে, দু’চারটে আসন বাদে পাহাড়ে তারা কার্যত প্রার্থীই দিতে পারেনি। রায়গঞ্জে বামফ্রন্ট ভোট পেয়েছে ৩.৮%, ডোমকলে ৭.৪% আর পূজালিতে ০.০৪%।

খোকার মাছ ধরতে যাওয়ার একটা প্রচলিত বাংলা ছড়া আছে। সিপিএমের অবস্থা এখন অনেকটা সেই খোকাবাবুর মতোই। তার ছিপ নিয়ে গেছে তৃণমূল আর মাছ নিয়ে গেছে বিজেপি। খোকাবাবুর এখন লাল জুতো পায়ে হাঁটা ছাড়া কোনও পথ রইল না। তবে বড় বড় দিদিরা যে উঁকি মেরে দেখবেনই এমন কোনও গ্যারেন্টিও দেওয়া যাচ্ছে না।

Developed by DXDasia