কৃষি দপ্তরের সহযোগিতায় তিনটি ফারমার্স ক্লাবের কৃষকরা ৫০ বা ৬০ টাকা জোড়া দামে আনারস বিক্রি করছেন

উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি মহকুমার বিধাননগর এলাকা আনারস চাষের জন্য গোটা দেশে বিখ্যাত। সারা বছর সেখানে আনারস চাষ হলেও জুন থেকে আগস্ট মাসের স্বাভাবিক উৎপাদন হয়। এবারে নানান কারণে এই বিধাননগরের আনারস চাষ মার খেয়েছে। ফলে মাথায় হাত চাষিদের। অবস্থা এমন হয়েছে যে শিলিগুড়িতে এবারই প্রথম রাজ্য সরকারের কৃষি দপ্তরের উদ্যোগে কৃষকদের স্বার্থে আনারস বিক্রির কাউন্টার খোলা হল।

গোটা দেশে শিলিগুড়ি মহকুমার বিধাননগরের আনারস বিখ্যাত। দিল্লি, হরিয়ানা, পাঞ্জাবে বিধাননগরের আনারসের খুব চাহিদা। কিন্তু এবারে সেই চাহিদা ৩০ শতাংশ কম। দক্ষিণ ভারতের আনারসের চাহিদা তৈরি হয়েছে দিল্লিতে। ফলে চিন্তিত বিধাননগরের চাষিরা।

ছোট ৫০০ আর বড় ৩০০ সব মিলিয়ে প্রায় ৮০০ আনারস বাগান রয়েছে বিধাননগর এলাকায়। কমবেশি দশ হাজারেরও বেশি চাষি জড়িত এই আনারস চাষের সঙ্গে। বছরে এই ব্যবসায় প্রায় ত্রিশ কোটি টাকার লেনদেন হয়। বিধাননগর ব্যবসায়ী সমিতির কার্যকরী সভাপতি শিবেশ ভৌমিক জানিয়েছেন, কৃষকরা ১২ টাকা থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে আনারস বিক্রি করলে তাঁদের লাভ হয়। কিন্তু এবারে তাঁদের ৭ টাকা থেকে ৯ টাকা প্রতি কেজি দরে আনারস বিক্রি করতে হচ্ছে। এবার বিধাননগরের আনারসের বিপণন খারাপ হওয়ার জন্য অনেকগুলো কারণ বলছেন তাঁরা। কারণগুলো হল, আনারসের উৎপাদন বাড়ছে। কিন্তু ক্রেতা কমছে। নেপালে এই সময় ভালো আনারস রপ্তানি হত। এবারে জিএসটি আসায় রপ্তানি ভালো ধাক্কা খায়। তার ওপর, দিল্লিতে চাহিদা কমছে বিধাননগরের আনারসের। অন্যবারের তুলনায় এবার ৩০ শতাংশ চাহিদা কমেছে। ফলে অতিরিক্ত আনারস উৎপাদন হলেও বিপনন নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন। এখন শিবেশবাবুরা বিধাননগরের আনারস বাঁচাতে সেখানে শিল্প করার ওপর জোর দিয়েছেন। আনারস ভিত্তিক শিল্প কারখানাগুলো অনেক আনারস কিনলে উপকার হবে চাষিদের। এর বাইরে আনারস চাষিদের জন্য হিমঘর তৈরি করলে অনেক ভালো হবে। বৃহস্পতিবার শিলিগুড়িতে রাজ্য কৃষি দপ্তরের মহকুমা আধিকারিক পার্থ রায় জানান, আনারস চাষিরা তাঁদের কাছে এসে বলেছিলেন যে তাঁরা এবার বিপণন করতে পারছেন না। সব শুনে বিগত সাত দিন ধরে সুভাষপল্লী অফিসের সামনে কাউন্টার খুলে দিয়েছেন পার্থবাবুরা। কৃষি দপ্তরের সহযোগিতায় তিনটি ফারমার্স ক্লাবের কৃষকরা ৫০ বা ৬০ টাকা জোড়া দামে আনারস বিক্রি করছেন। এতে উপকৃত হচ্ছেন একশো চাষি। যেসব আনারসে কীটনাশক ব্যাবহার হয় না বা যেসব আনারস জমিতেই পেকেছে সেসবই সকালবেলা জমি থেকে তুলে এনে ওই কাউন্টার থেকে বিক্রি করার অনুমতি তাঁরা দিয়েছেন। প্রথম দিন থেকেই তাঁরা এই আনারস বিক্রিতে ভালো সাড়া পাচ্ছেন। ভিড় করে লোকে এই আনারস কিনছেন। সরকারি সহায়তায় এইভাবে কাউন্টার করে আনারস বিক্রি এই প্রথম বলে কৃষি আধিকারিক জানিয়েছেন। কয়েকদিনে প্রায় ৮ হাজার আনারস এভাবে বিক্রি হয়ে গিয়েছে।

Developed by DXDasia