
দৃষ্টিহীন সুব্রতর এই পারদর্শিতায় অবাক সকলেই
চোখে দেখতে পান না তিনি। তবু কম্পিউটারে দক্ষতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন শিলিগুড়ি দক্ষিণ শান্তিনগরের সুব্রত চক্রবর্তী। কিন্তু একটি চাকরি না থাকায় পরিবার নিয়ে বেশ কষ্টে আছেন শিলিগুড়ি কলেজের স্নাতক উত্তীর্ণ এই যুবক।
ছোট থেকেই দৃষ্টিহীন সুব্রত। ওঁর বাবা কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন। ঘরে অ্যাডবেস্টসের ছাউনি। বেশি বৃষ্টি হলেই জল পড়ে। উনুনে নিয়মিত হাঁড়ি চড়ানোই মুশকিল পরিবারের পক্ষে। এর মধ্যেই প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে সুব্রত ২০১৫ সালে শিলিগুড়ি কলেজ থেকে সোসিওলজিতে অনার্স নিয়ে স্নাতক হন। সঙ্গে বিশেষ অর্জন কম্পিউটারের একাধিক ডিগ্রি। একটি বিশেষ সফটওয়ার তাঁর কম্পিউটারে লোড করা আছে। তার সাহায্যেই সুব্রত টাইপ করতে পারেন, জানা আছে এক্সেল, বাংলা টাইপ। ইন্টারনেটেও সমান সাবলীল তিনি। অনেক ছেলেমেয়েই তাঁর কাছ থেকে কম্পিউটার শিখে চাকরি করছে বেসরকারি সংস্থায়। অথচ সুব্রত একটিও চাকরি পাননি। দৃষ্টিহীন প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও যেমন পান না প্রতিবন্ধী ভাতা। আর্থিক নানান সমস্যা থাকলেও, বিপিএল তালিকার অন্তর্ভুক্ত হননি তাঁরা।
অথচ এরপরও ভালো চাকরি পেলে তাঁর মতো পিছিয়ে পড়া প্রতিবন্ধীদের জন্য কাজ করে যেতে চান সুব্রত। তিনি বলেন, ‘সোসিওলজিতে অনার্স নিয়ে পাশ করে বসে থাকব কেন? তাই সমাজের জন্য কিছু করতে চাই।’ এখন সরকারি চাকরি পাওয়ার জন্য বিভিন্ন পরীক্ষা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে চূড়ান্ত অর্থসঙ্কটের জন্য আপাতত একটি বেসরকারি সংস্থায় হলেও তার চাকরি দরকার। খেয়ে না-খেয়ে কিনেছেন ল্যাপটপ। আর সেই ল্যাপটপ নিয়েই চাকরির জন্য এক অন্যরকম লড়াইয়ে নেমেছেন এই দৃষ্টিহীন মেধাবী যুবক।
