
উষ্ণায়ণ- বদলে যাচ্ছে কফির স্বাদ
কফির নাকি আগের মতো স্বাদ হচ্ছে না। তার উপর দাম বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি লন্ডনে বিজ্ঞানীরা বলেছেন, উষ্ণায়নের কারণে কফি উৎপাদনের উপযোগী জমির পরিমাণ দিন দিন কমছে। উন্নত মানের কফি উৎপাদনের জন্য ইথিওপিয়া বিখ্যাত। আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে বড় কফি রপ্তানিকারক দেশ ইথিওপিয়া। কিন্তু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে আগামী শতাব্দীর মধ্যে এ অঞ্চলের কফি চাষ ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে গবেষকদের মত। ব্রাজিল ও ভিয়েতনাম—এ দুটি দেশ সবচেয়ে বড় কফি উৎপাদনকারী দেশ। এ দুটি দেশের অনুকূল আবহাওয়া নিয়ে চলতি বছরের শুরুর দিক থেকে কিছুটা উদ্বেগ ছিল। সাময়িকভাবে তা কেটে গেলেও এখনও আবহাওয়া নিয়ে সামগ্রিক শঙ্কা যায়নি। এ কারণে আগামী কয়েক মাস কফি বীজের উৎপাদন কমে যেতে পারে।
এদিকে উষ্ণায়নের ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা যত সামান্যই বাড়ুক, তার প্রভাবে কফির মান কমে যাচ্ছে। ফলে সর্বোচ্চ মানের কফির দাম অচিরেই বেড়ে যেতে পারে।
গ্রিনহাউস গ্যাস যে হারে নিঃসৃত হচ্ছে, সেটি বজায় থাকলে ২১০০ সালের মধ্যে আফ্রিকা অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যেতে পারে। এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ যদি তাপমাত্রা সত্যিই ৪ ডিগ্রি বেড়ে যায়, তবে ইথিওপিয়ার কফি উৎপাদনের এলাকা ৬০ শতাংশ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা। স্বাভাবিক ভাবেই তার বিপুল প্রভাব পড়বে দামের উর। এমনকী স্বাদের উপরেও। ব্রাজিল বিশ্বের সবচেয়ে বেশি কফি উৎপাদনকারী দেশ। কিন্তু খরা ও কম বৃষ্টিপাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সে দেশের কফি চাষও।
বিজ্ঞানীরা নলছেন, এই পরিস্থিতি এড়াতে যেমন দরকার নতুন এলাকায় কফি চাষ নিয়ে ভাবনা, তেমনই দরকার উষ্ণায়ন ঠেকাতে বন সৃজণ। এক সময়ে লাভ বাড়াতে কফি চাষের এলাকা বাড়ানো হয়েছে অরণ্য নির্মূল করে। অরণ্য এখন তার প্রতিশোধ নিচ্ছে। এখনই সতর্ক না হলে সমুহ বিপদ। কফির স্বাদ নোনতা হবে যাবে।
