
থাকছে উন্নত মানের টেলিস্কোপ, কৃত্রিম উপগ্রহের বিরল মডেল এবং অবজার্ভেটারি
আকাশ যখন ঢেকে যাচ্ছে বহুতল আর ফ্লাইওভারে, রাতের আকাশে তারা দেখার অভ্যেস যে কমবেই সেটা বলা বাহুল্য। বিশেষ করে ছোটো থেকে ইঁদুর দৌড়ের সামিল হতে গিয়ে নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের এখন আকাশ চেনার সুযোগ নেই বললেই চলে। এরকমই পরিস্থিতিতে খোলা হাওয়ার বার্তা নিয়ে এল বিধান শিশু উদ্যান। আগামী প্রজন্মকে ভারতের মহাকাশ গবেষণার বিবর্তন ও সাফল্য সম্পর্কে জানাতে এখানে গড়ে উঠতে চলেছে মহাকাশ বিষয়ক স্থায়ী প্রদর্শনী।
সব ঠিকঠাক চললে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির মধ্যে পূর্ব ভারতের এই ধরনের প্রথম উদ্যোগ চালু হয়ে যাবে। স্থায়ী প্রদর্শনীর সঙ্গে বিধান শিশু উদ্যানে গড়ে উঠছে উন্নত মানের টেলিস্কোপ সহ অবজার্ভেটারিও। টেলিস্কোপের মাধ্যমে দেখা যাবে মঙ্গল, শুক্র, চারটি উপগ্রহ সহ বৃহস্পতি, শনির বলয় এবং তারাগুচ্ছ। ভারতের মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসকে তুলে ধরতে এখানে আর্যভট্ট, রোহিণী, পিএসএলভি, জিএসএলভি, এএসএলভি, চন্দ্রযান, মঙ্গলযান এবং অন্যান্য ভারতীয় কৃত্রিম উপগ্রহের মডেল থাকবে। থাকবে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইনস্যাট এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ব্যবস্থাপনায় রিমোট সেনসিং সম্পর্কে জানার ব্যবস্থা। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণার পথিকৃত বিক্রম সারাভাই, সতীশ ধাওয়ান, ইউ আর রাও, কে কস্তুরীরঙ্গন, সি মাধবন নায়ার, কে রাধাকৃষ্ণণের মতো বিজ্ঞানীদের কথাও এখানে তুলে ধরা হবে। শিশু-কিশোরদের উপযোগী করে মহাকাশ বিজ্ঞানের পাঠ দেওয়ার এই অভিনব উদ্যোগ ইতিমধ্যেই সচেতন নাগরিকদের প্রশংসা লাভ করেছে। নতুন করে আকাশ ফিরে পাওয়ার আনন্দে খুশির হাওয়া কচিকাঁচাদের মহলেও।
এর পাশাপাশি এখন যারা বিপদের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় স্কেটিং করেন, তাঁদের জন্যও রয়েছে সুখবর। বিধান শিশু উদ্যানে চালু হচ্ছে শিশুদের জন্য স্কেটিং-এর ব্যবস্থা। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই স্কেটিং ট্র্যাক তৈরি করা হচ্ছে ৭ হাজার বর্গফুট এলাকায়। বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকছে স্কেটিং শিক্ষার্থীদের জন্য।
