
বাড়ির লোক জোর করে বিয়ে চাইছিল মেয়েটির
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা রোডের নবকলা হাইস্কুলের ছাত্রী পূজা দত্ত। বয়স ১৫ বছর। বাড়ির লোক প্রায় জোর করেই বিয়ে দিতে চায় মেয়েটির। কিন্তু পূজা তা মেনে নেয়নি, রুখে দাঁড়িয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষককে একটি চিঠি দিয়ে সেখানে লিখেছে, “আমি এখন পড়াশোনা করতে চাই। কিন্তু বয়স না হওয়া সত্ত্বেও বাবা-মা আমার বিয়ে দিতে চাইছে। তাই আমার অনুরোধ, এই বিয়ে যাতে বন্ধ হয়। আমি যাতে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারি, তার সুব্যবস্থা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।” চিঠিটি পেয়ে প্রায় নড়েচড়ে বসেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এমনকি পূজার বাড়ির লোকজনও।
ওই গ্রামেরই এক ছেলের সঙ্গে নাবালিকা পূজার বিয়ের ঠিক হয়েছিল। পূজার অমতে। মেনে নিতে পারেনি সে। বিরোধিতা করলেও কোনো লাভ হয়নি। ‘বাচ্চা মেয়ে’র কথা কেই বা শোনে! তার মত প্রকাশের মতো ‘বয়স’ হয়েছে নাকি! অবশেষে পূজা রুখে দাঁড়িয়েছে। স্যারেদের বলেছে, পড়াশোনা করতে চাই, বিয়ে করব না। স্কুল থেকেই গড়বেতার বিডিও অভিজিৎ চৌধুরীকে খবর পাঠানো হয়। তিনি আইনিভাবে বিয়ে বন্ধ করেন নাবালিকার। এমনকি পূজার বাবা-মায়ের থেকে লিখিতভাবে বয়ান নেওয়া হয়, মেয়ের ১৮ বছর বয়স না হওয়া অবধি বিয়ে দেওয়া যাবে না। জোর করে বিয়ে দেওয়া যাবে না।
পূজা এই সিদ্ধান্তে খুশি। কিন্তু বাবা-মা? গ্রামের অন্যান্য মানুষ? এখনও তো বাংলার কত কত গ্রামে নাবালিকার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে কী অবহেলায়। পূজাদের রুখে দাঁড়ানো উচিত এইভাবেই। ছাত্রীর জন্য গর্বিত প্রধান শিক্ষক-সহ স্কুল কর্তৃপক্ষ।
