১৮০ জন পথশিশুদের কাছে রোজ পৌঁছে যায় খাবার, অসুখে ফুটপাথই হয়ে ওঠে ডিসপেনসারি

অসামান্য উদ্যোগ একজন ব্যতিক্রমী মানুষের

শুরুটা হয়েছিল তিন বছর আগে। অসহায় পথশিশুদের জন্য কিছু একটা করতে চাইছিলেন চন্দ্রশেখর কুণ্ডু। পথশিশুদের মধ্যে অধিকাংশই অপুষ্টির শিকার। নানা অসুখও প্রায়ই ঘিরে ধরে তাদের। তিন বছর আগে একা একাই চন্দ্রশেখর শুরু করেছিলেন ‘শেয়ার ইওর স্পেশাল ডে’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের মূল স্লোগান ছিল, ‘আপনার বিশেষ দিনটিতে দুঃস্থ বাচ্চাদের খাওযান পুষ্টিকর খাবার’। একলা চলতে চলতেই ডাক দিচ্ছিলেন চন্দ্রশেখর। সেই ডাকে সাড়া দিক্যে এগিয়েও আসেন অনেকে। ক্রমে ‘বিশেষ দিন’-এর খাওয়া বদলে যায় রোজ খাবার পৌঁছে দেওয়ার পরিষেবায়। এখন ১৮০ জনের বেশি শিশুকে রোজ খাবার পৌঁছে দেন চন্দ্রশেখর কুণ্ডু ও তাঁর সহযোগীরা। বিভিন্ন ক্যান্টিন ও ব্যারাকের বেঁচে যাওয়া পুষ্টিকর খাবার সংগ্রহ করে পৌঁছে দেওয়া হয় শিশুদের কাছে।

শুধু খাবারের যোগানই নয়, পথশিশুদের চিকিৎসার দায়িত্বও নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন চন্দ্রশেখর। তাঁর উদ্যোগে পথই হয়ে ওঠে ডিসপেনসারি। এই উদ্যোগে তিনি পাশে পেয়েছেন ইন্ডিয়ান অ্যাকাডেমি অফ পেড্রিয়াটিকসের কয়েকজন ডাক্তারকে। প্রতি মাসে একদিন করে ডিসপেনসারি বসে সাদার্ন এভিনিউয়ের ফুটপাথে। ওষুধও দেওয়া হয় বিনামূল্যেই।
  
এইসব ছোট্ট শিশুরাই একদিন কুঁড়ি থেকে ফুল হয়ে ফুটে উঠবে। মাথার ওপর ছাদ না দিতে পারলেও তাদের স্বাস্থ্যগঠনের দায়িত্ব নিয়েছেন চন্দ্রশেখর। সেটুকুই বা কম কী! যদি তাঁর দেখাদেখি অন্যান্যরাও এসে পাশে দাঁড়ান, তাহলে এই পৃথিবীটা আরো সুন্দর হয়ে উঠবে সন্দেহ নেই। 
 

Developed by DXDasia