চালের দানায় ১১৫টি মানচিত্র

মান্না দে, শাহরুখ খান, কপিল দেব – প্রত্যেকেরই প্রশংসা পেয়েছেন এই শিল্পী

একটি চালের দানায় ভারতের ১১৫টি মানচিত্র। একটি সরষেদানায় বিশ্বের মানচিত্র। খালি চোখে এইসব মাইক্রোআর্ট করে ইন্ডিয়া ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস থেকে শংসাপত্র আর মেডেল পেলেন শিলিগুড়ি চম্পাসারি সমরনগরের মাইক্রোআর্টিস্ট রমেশ শাহ। তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তোলা।

১৯৯৪ সাল থেকে রমেশ শাহ তাঁর এই অতিক্ষুদ্র শিল্পকর্ম শুরু করেন। খালি চোখে তিনি চালের দানা, সরষেদানা বা ডালের দানায় ওইসব ব্যতিক্রম কাজ করলেও অন্য সাধারণ মানুষদের তা দেখতে হবে চোখে লেন্স লাগিয়ে। প্রয়াত সঙ্গীতশিল্পী মান্না দে থেকে শুরু করে ক্রিকেটার কপিল দেব, শাহরুখ খান, জয়াপ্রদা, শিল্পা শেঠি সহ আরও অনেক সেলিব্রিটি তার শিল্পকর্ম দেখে ভূয়সী প্রশংসা করেন। ২০০১ সালে দিল্লিতে তিনি তাঁর ঐসব শিল্পকর্ম নিয়ে প্রদর্শনী করলে তাতে সেই সময়কার সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা ছাড়াও ৩২ জন সাংসদ তা দেখতে হাজির হন। চাল আর সরষেদানায় সূক্ষ্ম শিল্পকর্ম করার পাশাপাশি ৫ মিলিমিটার ও ৪ মিলিমিটার আকারের একটি ছোট বই তৈরি করেছেন রমেশ। তাঁর দাবি, ঐ বইটি বিশ্বের সবচেয়ে ছোট বই। বইটিতে বিশ্বের ২২৩টি দেশের নাম লেখা আছে, তাছাড়াও রয়েছে ৬৫জন বিশ্ববিখ্যাত ব্যক্তিদের নাম। ৫ মিলিগ্রাম ওজনের একটি গান্ধী চশমাও তৈরি করেছেন তিনি। টানা তিনমাস ধরে তৈরি করা সেই চশমা বিশ্বের সবচেয়ে ছোট চশমা বলেও দাবি রমেশের। একটি চালের দানায় তিনি লিখেছেন বন্দেমাতরম গানটি। নখের ওপরও অনেক কাজ রয়েছে তাঁর। বিভিন্ন স্থান থেকে রমেশ সংবর্ধনা পেয়েছেন। এখন শিলিগুড়িতে একটি মিউজিয়াম তৈরির লক্ষ্য নিয়েছেন তিনি। জানান, চাল, সরষে, ডালের ওপর তিনি যে দুহাজারেরও বেশি সূক্ষ্ম শিল্পকর্ম করেছেন সেসব দিয়েই মিউজিয়াম তৈরির প্রচেষ্টা তাঁর। আর সেটা তৈরি হয়ে গেলে তা হবে বিশ্বের প্রথম মাইক্রোআর্টের মিউজিয়াম।

Developed by DXDasia