আগুন পাহাড়, চা-এর খোঁজে ময়নাগুড়িতে বিদেশীরা

উত্তরবঙ্গের বাগান থেকে চা-পাতার নমুনা সংগ্রহ করলেন তাঁরা

জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ির ভোটপট্টি গ্রামের একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠী পরিচালিত চা ফ্যাক্টরির চা এবার ইংল্যান্ডে যেতে পারে। সম্প্রতি জয় জল্পেশ স্মল টি গ্রোয়ারস সোসাইটির চা ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করে এমন আভাসই দিয়েছেন ইংল্যান্ডের তিন বিদেশিনী। তারা ঐ ফ্যাক্টরির কিছু চা এর নমুনা ইংল্যান্ডেও নিয়ে গিয়েছেন।

ময়নাগুড়ির ভোটপট্টিতে আসেন ইংল্যান্ডের ডোরসেট এলাকার বাসিন্দা তিন চা ব্যাবসায়ী, মিচেল কমিনস, হানা থরনটন ও কেটি বার্ডেন। বালাসনের কাছে অবস্থিত ঐ চা ফ্যাকটরি পরিদর্শন করে তারা কিছু নমুনা সংগ্রহ করেন। জানা গিয়েছে, এই তিন বিদেশিনী চিন, জাপান, শ্রীলঙ্কা, মালেশিয়া থেকে আগে চা পাতা কিনলেও এবার তারা উত্তরবঙ্গ থেকে চা পাতা কিনতে আগ্রহী। দার্জিলিঙের চা এর নাম জানলেও পাহাড়ে অশান্তি থাকায় তারা পাহাড়মুখো হতে চান নি।

ময়নাগুড়ির ঐ ফ্যাক্টরিতে ৫২২ জন ক্ষুদ্র চা চাষি রয়েছেন। স্মল টি গ্রোয়ারসের সভাপতি রজত কুমার রায় কারজি বলেছেন, ইংল্যান্ড থেকে আসা এই দলটি তাদের চা পাতা নিয়ে গিয়েছেন। তারা আশা করছেন, তাদের চা পাতা বিদেশে যাবে। আর বিদেশে উত্তরবঙ্গের এই চা যাওয়া শুরু করলে চা এর স্থানীয় বাজারও ভালো হবে বলেও তিনি মনে করেন। তারা তাই আগামী দিনে চা এর গুণগত মান আরও ভালো করার দিকে নজর দেবেন বলে জানিয়েছেন।

 
যদিও দার্জিলিঙের চা এর বাজার গোটা বিশ্বেই রয়েছে। কিন্তু গত ৮ জুন থেকে পাহাড়ে ব্যাপক অশান্তি শুরু হওয়ায় সেখানকার বাজারের দফারফা। দার্জিলিঙের চা-শিল্পে এর এবারে ক্ষতির পরিমান ১৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই অবস্থায় অনামি ময়নাগুড়ির চা ফ্যাক্টরি দেখতে বিদেশিনীদের আগমন কিন্তু চা শিল্পোদ্যোগীদের অনেকের কাছে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। দার্জিলিঙের জেলা শাসক জয়শি দাসগুপ্ত বলেন, দার্জিলিঙের চা কিভাবে আবার ঘুরে দাঁড়াবে তা বলা যাচ্ছে না।

Developed by DXDasia