কলকাতার কার্টুন-ট্যাক্সি

‘বাপি গ্রিন ট্যাক্সি’ খ্যাত ধনঞ্জয় চক্রবর্তীর এই উদ্যোগটি প্রশংসার দাবি রাখে

বাড়ির গায়ে ছবি আঁকার রীতি আমরা গ্রামবাংলায় দেখি। অন্যদিকে, আমাদের বাংলাদেশে যে রিক্সা চলে তার গায়েও আকা থাকে দরদি সব ছবি। কিন্তু গাড়ির গায়ে ঠিক এই রকম ছবি আঁকার ঘটনাটি প্রথম বললে ভুল হয় না। এবার কিছু তথ্য দিই। দিল্লিতে একটি স্করপিও গাড়ি চলে। তার গায়ে আঁকা গ্রাফিটির ছবি। আঁকা আছে অনেক প্রকার নকশা। বিটলস্‌ গ্রুপের গায়ক জর্জ হ্যারিসন তাঁর ছোট গাড়িটির গায়েও ছবি এঁকেছিলেন। কলকাতায় একটা ট্রাম আছে যে ট্রামের গায়েও আছে কলকাতার চলমান ছবি।

 

 

 

তাহলে ‘বাপি গ্রিন ট্যাক্সি’ খ্যাত ধনঞ্জয় চক্রবর্তীর বর্তমান এই উদ্যোগটির অভিনবত্ব কোথায়? অভিনবত্বটি বোঝা যায় ছবিগুলি দেখলেই। কারণ জর্জ হ্যারিসনের গাড়িটিতে ছবির মাধ্যমে নকশা করা হয়েছিল। দিল্লিতে যে গাড়িটি চলে সেটিও গাড়ির গায়ের নকশা আঁকার প্রসঙ্গেই তৈরি। সেগুলিও ডিজাইনারদের ইউনিক সব ক্রিয়েশন। কিন্তু ধনঞ্জয় চক্রবর্তী ওরফে বাপিদার এই গাড়িটির ইউনিকনেস হল ডেকোরেশনে নয়, কার্টুনে। এখানে কার্টুন দলের সব বিখ্যাত শিল্পীরা গাড়ির গায়ে ফুটিয়ে তুলেছেন নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখার বার্তা, পরিবেশ বাঁচানোর বার্তা, হেরিটেজ সংরক্ষণের বার্তা।

 

সেইসঙ্গে বাঙালির নানাবিধ সেন্টিমেন্টকে একেছেন শিল্পীরা। যেমন রবীন্দ্রনাথ, সত্যজিৎ রায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, ঘটি-বাংলার ঝগড়া, ইষ্টবেঙ্গল-মোহনবাগান, ভিক্টোরিয়ার পরী, বাঙালির কবিতা, বইপাগলা বুড়ো – কী নেই এখানে! সঙ্গে আছে নির্ভাজাল কলের গান শোনার সবার আমন্ত্রণ। অর্থাৎ সব নিয়েই বাপির এই যুদ্ধ হল শুধু দূষণের বিরুদ্ধেই নয় বাঙালির মনের কোণে জমে থাকা ধোঁয়া মেঘকে সরিয়ে দেওয়ার যুদ্ধ।

 

 

এইদিক থেকে গাড়িটি চেহারা চরিত্রে ও বার্তাবাহী মেজাজে নতুন। সেইসঙ্গে বাপির গাড়ির সিলিংয়ে রয়েছে পৃথিবীর সব বন্যজন্তুদের পরিবেশ ফিরে পাওয়ার আনন্দ। গাড়ির মাথায় এই রকম ঘাস-ফুল ও লতাপাতা দেখে তারা আপ্লুত। সবমিলিয়ে এক বর্ণময় নতুন উপহার বাপিদা ও কার্টুন দলের তরফে পেল এই কলকাতা শহর।

ছবি- রিমি দত্ত বনিক দে ও ঋদ্ধিক দত্ত

Developed by DXDasia