
‘মা মহিলা সংগঠন করার জন্য ঘরে ঘরে পর্যন্ত চলে যেতেন’
নকশাল নেতা চারু মজুমদারের স্ত্রী লীলা মজুমদারের ওপর প্রকাশিত হতে চলেছে একটি বই। ২০১৭-এর অক্টোবর-নভেম্বর মাসের মধ্যে বইটি প্রকাশিত হতে পারে জানা গেছে পরিবারসূত্রে। বইটি থেকে নকশালবাড়ি আন্দোলনের অজানা বেশ কিছু ঘটনা যেমন জানা যাবে, তেমনই জানা যাবে ষাট ও সত্তরের দশকের কৃষক ও বামপন্থী মহিলা আন্দোলনের সম্পর্কে। নকশালবাড়ি আন্দোলনের পঞ্চাশ বছরে লীলা মজুমদার সম্পর্কে এই বই প্রকাশিত হলে বামপন্থী বুদ্ধিজীবী মহলে সাড়া পড়বে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সিপিআই(এমএল)-এর জন্ম হওয়ার আগে সিপিআইএম দলে ছিলেন চারু মজুমদার। তাঁর সঙ্গে সংগঠন করতেন স্ত্রী লীলা মজুমদারও। তবে পরবর্তীকালে লীলাদেবী আর সিপিএম দলের সদস্যপদ নবীকরণ করাননি। সিপিএমও বহিষ্কার করেনি তাঁকে। তিনি ছিলেন কমিউনিস্ট নেত্রী। তাঁর সম্পর্কে অনেক কথাই আজও অজানা।
ছেলে অভিজিৎ মজুমদার জানান, ‘আমার মা শুধু চারু মজুমদারের সহধর্মিনীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি ইউনিক ক্যারেকটার। পার্টির মধ্যেই বিয়ে তাঁদের, তেভাগার পর। আমাদের টিকে থাকা বেঁচে থাকার মধ্যে মায়ের বড় অবদান ছিল। আমাদের ঘরে অর্থনৈতিক সমস্যা থাকলেও তা নিয়ে ক্ষোভ ছিল না আমাদের। মা ইনস্যুরেন্স করতেন। সিপিএম দল করার সঙ্গে মহিলা সংগঠন করার জন্য মহিলাদের ঘর পর্যন্ত চলে যেতেন।’
আরও জানা যায়, ১৯৬৭ সালে নকশালবাড়ি আন্দোলন শুরু হয়ে যাওয়ার পর, সিপিএম যখন নকশালবাড়িতে প্রবেশ করতে পারছে না, তখন লীলাদেবী ছিলেন সিপিএমের মহিলা নেত্রী। ’৭২ সালে সিপিএম নকশালবাড়িতে প্রবেশ করার সময় স্থানীয় লোকজন সিপিএম কর্মীদের জিজ্ঞেস করেছিলেন, লীলাদেবী আছেন কিনা তাঁদের দলে।
এইসব বিভিন্ন ঘটনা ও স্মৃতির টুকরো কোলাজই হতে চলেছে বইটির বিষয়বস্তু। সমাজতত্ত্ববিদ লীনা সেন, তিথি ভট্টাচার্য, আরতি হোড়রায়, অনিতা মজুমদার সহ আরও অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কলম ধরেছেন বইটির জন্য।
