
বাগবাজার লাইব্রেরি থেকে সোনাগাছি—এ’বছর ভাইফোঁটার অন্য রূপ দেখল কলকাতা।
এ এক ইচ্ছেপূরণের গল্প। অন্য সব বোনেদের মতোই ফোটাঁ দেওয়ার সাধ বৃহস্পতিবার পূর্ণ হল তাঁদের। তাঁদের মানে সমাজের মূলস্রোতে যাঁরা অবাঞ্ছিত। তবে, ঠিক ভাইফোঁটা নয়, এই স্বপ্নপূরণের উৎসবের একটা নতুন নাম আছে– ‘বোনফোঁটা’। সৌজন্যে মানবী ফাউন্ডেশন এবং দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি।
ভারতে রূপান্তরকামীরা আইনি স্বীকৃতি পেলেও সমাজের চোখে তাঁরা এখনও প্রান্তিক। অথচ, ভাইফোঁটার দিন তাঁদেরও ইচ্ছে করে প্রিয় ভাই কিংবা দাদাকে ফোঁটা দিতে, কিন্তু বাধ সাধে সমাজ। মানবী ফাউন্ডেশন এবং দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির উদ্যোগে বৃহস্পতিবার সকালে সোনাগাছিতে যৌনকর্মীদের ফোঁটা দিলেন কয়েকজন রূপান্তরকামী। বোনেদের মঙ্গলকামনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের নাম তাঁরা রেখেছেন ‘বোনফোঁটা’, যদিও সেখানে কয়েকজন ভাইকেও সেদিন ফোঁটা দিয়েছেন রূপান্তরকামীরা। কলকাতার বুকে এই ধরনের অনুষ্ঠান রূপান্তরকামীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইকে জয়ের একধাপ এগিয়ে দিল বলেই মনে করছেন অন্যতম উদ্যোক্তা তথা ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রান্সজেন্ডার বোর্ডের ভাইস চেয়ারপার্সন মানবী বন্দ্যোপাধ্যায়। রক্ষণশীলতাকে পরোয়া না করে মহানগরীর বুকে একরাশ খোলা হাওয়া বইয়ে দেওয়ার জন্য এই দুই সংগঠনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

এদিন উত্তর কলকাতার বাগবাজার লাইব্রেরিতেও ‘সংবেদন’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে রূপান্তরকামীরা ‘বোনফোঁটা’ পালন করেন বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের ফোঁটা দিয়ে। ভারতের প্রথম রূপান্তরকামী আইনজীবী মেঘ সায়ন্তনী সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
