
বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি বঙ্গদর্শনের দায়বদ্ধতা আছে
শহরজোড়া কোনো ফ্লেক্স-বিজ্ঞাপন নেই, প্রতিদিন হাজার হাজার খবরের পিছনে কোনো ইঁদুরদৌড়ও নেই। যা আছে তা আমাদের দায়িত্ব। এই বাংলাকে আমরা যেভাবে দেখতে অভ্যস্ত, ধীরে ধীরে তাকে কি হারিয়ে ফেলছি? সারাদিন বাংলাকেন্দ্রিক নেতিবাচক খবর দেখতে, শুনতে, পড়তেই আমরা হয়ত ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। কিন্তু এসবের বাইরে গিয়ে যদি হাঁটা যায়? যদি এই বাংলাকে নতুন চোখে আবিষ্কার করা যায়? এই হাজারো নেতিবাচক কন্টেন্টের ভিড়ে আমরা নিজেদের গা ভাসাতে চাই না। এই না চাওয়াটা আমাদেরই সিদ্ধান্ত। কারণ, আমরা মনে করি বাংলার যা কিছু উৎকর্ষ বা উৎকৃষ্ট তা মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া উচিত। প্রতিদিনের এই ইঁদুরদৌড়ে আমরা কি বাংলা ও বাঙালির ইতিহাস ভুলতে বসেছি? কিংবা আমার পাশের বাড়ির অনামি মানুষটি এমন একটি কাজ করে ফেলছেন আড়ালে, যা জানতেই পারছি না! বাঙালির ইতিহাস এবং প্রচারহীন মুখদের নতুনভাবে জায়গা দেওয়াই বঙ্গদর্শনের কর্তব্য। দায়িত্বও বটে। এই কর্তব্যবোধ থেকেই বারো বছর ধরে আমরা এই কাজই করে গিয়েছি। গত মাসেই আমাদের পাঠক সংখ্যা পাঁচ লক্ষ ছাড়িয়েছিল। বোঝা গিয়েছিল বাংলার মানুষ ‘অন্যরকম’ কিছুর খোঁজ করছেন, হাতড়াচ্ছেন। বঙ্গদর্শন সিকি ভাগ হলেও তা দিতে পারছে।
অনেকেই মনে করেন বঙ্গদর্শন কেন দলীয় রাজনৈতিক তরজার খবর করে না, করলেও তা কি পক্ষপাতকে নির্দেশ করে? আসলে আমরা আমাদের ভাবনাচিন্তা ও যুক্তি অনুযায়ী যেগুলো শুধুমাত্র ইতিবাচক বলে সিদ্ধান্ত নিই, শুধুমাত্র সেই খবরই প্রচার করি। আগামীদিনে তাই-ই করব। এখানে কোনো পক্ষপাত নেই। যে বা যাঁরা এই বাংলাকে চরম উৎকৃষ্টের সঙ্গে বিচার করবেন, বাংলা ভাষা-বাংলা সংস্কৃতির প্রতি যাঁদের দায় আছে, সেই দায় থেকেই যখন তাঁরা বিধানসভা বা লোকসভায় সোচ্চার হন, যখন দেশের ভয়াবহ সংকটে তথাকথিত স্রোতে গা না ভাসিয়ে জনসাধারণকে প্রতিনিধিত্ব করেন, ঘরের বা দেশের সংকটের কথা বলেন, বঙ্গদর্শন তাঁদের হয়েই কথা বলবে। সেই বিশেষ রাজনৈতিক নেতা বা নেত্রী যেকোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী বা সমর্থক হতে পারেন। কারণ বাঙালির ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং অখ্যাত মানুষটির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চোখে এইসব রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীর বক্তব্যও ইতিবাচক। কিন্তু নেতিবাচকতার প্রতি দায় এড়িয়ে যাওয়া নয়, এই বাংলার মধ্যে যে আরেকটা বাংলা আছে- তাকে জনসাধারণের সামনে তুলে ধরাই আমাদের একমাত্র প্রধান উদ্দেশ্য। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, হানাহানি, রাজনৈতিক সন্ত্রাসের খবর তাই এখানে পাওয়া যাবে না। সস্তার জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভে গুজব, বিগ ব্রেকিং নিউজ বা ভুয়ো খবরের ক্রমবর্ধমান দুনিয়াকেও সযত্নে পাশ কাটিয়ে চলাই আমাদের ধর্ম।
বাংলার একমাত্র ইতিবাচক ঠিকানা বঙ্গদর্শন। প্রতিদিন যখন পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ সংবাদমাধ্যম শুধুমাত্র নেতিবাচক খবর পরিবেশন করেন এবং তাঁদের ‘টিআরপি’ নির্ধারণের মাধ্যম শুধুমাত্র নেতি, তখন একজনকে এগিয়ে আসতেই হয় নতুন চোখে বাংলাকে দেখানোর দায় থেকে। এই দায় বা দায়িত্ববোধ বাংলার অহংকার। বঙ্গদর্শনের অহংকার।
